Tuesday, June 19, 2012

ডায়াবেটিসঃ চিকিৎসার আগে প্রতিরোধ জরুরী (শেষ পর্ব)


আমাদের দেশে তথা তৃতীয় বিশ্বে চলছে দ্রুততার সাথে জীবনযাত্রা পরিবর্তন। শহর হয়ে উঠছে যান্ত্রিক জীবনের ধারক, গ্রাম হয়ে উঠছে শহর। পরিবর্তন হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস, চলমান জীবন, মানসিক গঠন, চরিত্র ও সংস্কৃতি। বাড়ছে মানসিক চাপ ও কায়িক শ্রমের অভাব। খেলার মাঠের অভাবে শরীর চর্চা ও খেলাধূলার স্থান দখল করে নিচ্ছে টেলিভিশন, কম্পিউটার গেমস্‌, টুইটার ও ফেসবুক কেন্দ্রিক অলস জীবন। তাই দেখা যাচ্ছে, যে রোগগুলো ৬০ বছর পরে দেখা যেত তা এখন ৩০-৪০ বছর বয়সেই আক্রমণ করছে। শতকরা ৫০ ভাগ ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগেই শরীরে নানা অঙ্গ যেমন চোখ, কিডনি, হার্ট, ব্রেইন বা স্নায়ু ইত্যাদিকে আক্রান্ত করে ফেলে। তাই ডায়াবেটিস হবার আগেই একে প্রতিরোধ করতে হবে।


ডায়াবেটিস প্রধানতঃ মুখে খাওয়ার ঔষধ ও ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নেওয়া এই দু’টি উপায়ে চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রন করা হয়ে থাকে। একটা সময় ছিল যখন মানুষের জানা ছিল না যে ডায়াবেটিস প্রতিরোধও করা যায়। পরে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে প্রায় ৬৫% ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। ডায়াবেটিসের মত একটি জটিল রোগ প্রতিরোধের জন্য দরকার সবাইকে এব্যাপারে শিক্ষিত করে তোলা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। হাতে নিতে হবে ব্যাপকভাবে “ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি”। এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যাক্তিদের রক্ত গ্লুকোজ পরীক্ষা করে আগে ভাগে ডায়াবেটিস নির্নয় করতে হবে। এতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ডায়াবেটিসের মারাত্মক সব জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। তাই ৪০ বছর বয়স হওয়ার পর থেকে বছরে অন্ততঃ একবার হলেও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো উচিত।


ডায়াবেটিসের লক্ষন, ঝুঁকি ও জটিলতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হলো প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ। এটা সুস্পষ্টভাবে তিনটি ধাপে বিভক্ত-

প্রাথমিক প্রতিরোধঃ এটা হলো রোগটি না হতে দেওয়া। এটি নন ডায়াবেটিক ও প্রি ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নন ডায়াবেটিক হলো যারা ডায়াবেটিস রোগী না। আর প্রি ডায়াবেটিক হলো যাদের ঝুঁকি বা প্রবনতা আছে। যেমনঃ পরিবারে নিকট আত্মীয়দের ডায়াবেটিস আছে (যাদের সাথে জেনেটিক মিল রয়েছে এমন)। সাধারন কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলে, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অনুসরন ও জীবন ধারা পরিবর্তন করে প্রি ডায়াবেটিক সময়কে দীর্ঘায়িত করা সম্ভব। তাই দরকার এদেরকে সনাক্ত ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। এতে ডায়াবেটিস পরিচর্য্যা ও জটিলতা চিকিৎসার ভার অনেক কমবে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রতিরোধই বেশী দরকার। যাদের পারিবারিক ভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে তারা যদি ৩০ বছর থেকেই নিয়মিত ভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান পরীক্ষা করেন ও সুশৃংখল জীবন যাপন করেন তবে এমন হতে পারে যার ডায়াবেটিস ৩৫ বছরে হত, সেটা ৫০ বছর বয়সে গিয়ে দেখা দিচ্ছে।

দ্বিতীয় ধাপের প্রতিরোধঃ এটা হলো দ্রুত রোগ সনাক্তকরন ও চিকিৎসা প্রদান। সঙ্গে রোগের লক্ষন, ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যায়সংকোচন ও নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা কেন জরুরী এসব সম্পর্কে অবগতকরন। এতে লাভ হলো ডায়াবেটিসের জটিলতা যা আস্তে আস্তে দেখা দিবেই, তা ১০-১৫ বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে!

তৃতীয় ধাপঃ এতে রয়েছে, যাদের ইতিমধ্যে জটিলতা দেখা দিয়েছে  তাদের দ্রুত সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাতে জটিলতা যেন জটিলতর অবস্থার দিকে না যায়। ডায়াবেটিস নীরবে দৃষ্টি ক্ষমতা হ্রাস ও অন্ধত্ব, কিডনির অক্ষমতা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্নায়ুরোগ, হাত-পায়ে ঝিন ঝিন, জ্বালাপোড়া, যৌনক্ষমতা হ্রাস, রক্তনালীর রোগ ইত্যাদি জটিলতার সৃষ্টি করে থাকে।

No comments:

Post a Comment