Tuesday, June 19, 2012

ডায়াবেটিস: স্বাস্থ্য শিক্ষা (পর্ব-৩)


খাদ্য ও বিধি নিষেধঃ


রোগীকে কম খেতে হয়, এটা ভ্রান্ত ধারনা। স্বল্প পরিমানে সুষম খাবার বার বার ও নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হয়। এতে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান স্থিতাবস্থায় থাকে। মোট ডায়াবেটিক রোগীর শতকরা অর্ধেকেরও বেশি রোগীকে শুধু খাদ্য নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে সুস্থ্য রাখা যায়। খাবারের ভাগে ৫০-৬০% শর্করা, আমিষ ২০-৩০% এবং চর্বি ২০% থাকতে হয়। চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। আঁশবহুল খাবার যেমন শাক-সব্জি, বিভিন্ন ধরনের দানাদার শস্য, ডাল ও টকফল বেশি খেতে হবে। কেননা আঁশ জাতীয় খাবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। খাসি-গরুর লাল মাংসের পরিবর্তে মাছের প্রাধান্য বাড়াতে হবে। চর্বি ছাড়া মুরগী খাওয়া যাবে। শরীরের ওজন বেশী থাকলে খাদ্য নিয়ন্ত্রন, হাঁটা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে তা কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। ডায়াবেটিস হলে কয়েকদিন নিয়মিত ওষুধ খেয়ে, খাদ্য নিয়ন্ত্রন করে ও ব্যায়াম করে রোগীরা খানিকটা সেরে উঠেন। তারপর ভাবেন আর কিছু দরকার নেই, অসুখ ভালো হয়ে গেছে। ধারনাটি সম্পূর্ন ভুল। ডায়াবেটিস চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রন, নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ গ্রহণ, শিক্ষা ও শৃংখলা মেনে চলা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন খুব কঠিন নয়। প্রয়োজন নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা, উপযুক্ত জ্ঞান আহরন ও ট্রেনিং নেওয়া। স্বাস্থ্যশিক্ষাই ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা।

স্বাস্থ্য শিক্ষাঃ

ডায়াবেটিস সারাজীবনের রোগ। এ রোগ কখনো সারে না কিংবা স্বল্পকালীন চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে যাওয়ার মত কোন অসুখ নয়। এটিকে সুশৃংখল জীবন যাপনের মাধ্যমে সারাজীবন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হয়।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে এবং ডায়াবেটিসের জটিলতামুক্ত হতে কিছু জিনিষ মেনে চলা আবশ্যক।

  • প্রয়োজন ও সময় অনুযায়ী পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহন করা।
  • অতিরিক্ত লবণ ও চবিজাতীয় খাবার যথাসম্ভব পরিহার করুন।
  • প্রতিদিন কিছু পরিমান শাক-সব্জি ও ফলমূল খান।
  • ফাস্টফুড, রিচফুড ও কোল্ড ড্রিংকস্‌ পরিহার করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমান বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
  • নিয়মত হাঁটুন, ব্যায়াম করুন এবং লিফ্‌টের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন সব ব্যায়াম সবার জন্য উপযুক্ত নয়।
  • প্রচলিত বিজ্ঞাপনের চমকে আকৃষ্ট হয়ে দ্রুত চিকন হওয়ার ঔষধ বা যন্ত্র ব্যবহার করতে যাবেন না। এতে অমঙ্গলের আশংকায় বেশী।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে নিকটস্থ ডায়াবেটিক সেন্টারে যান বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

No comments:

Post a Comment