যে
কয়েকটি রোগ মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি ও সমস্যার সৃষ্টি করে, ডায়াবেটিস
তারমধ্যে অন্যতম। সারা বিশ্বেই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইনসুলিন শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
আর এর অভাব হলে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। তখন ডায়াবেটিসের
উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শরীরের প্রায়
প্রতিটি তন্ত্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারমধ্যে কিডনি, চোখ, স্নায়ুতন্ত্র,
প্রজননতন্ত্র ও ত্বক অন্যতম। ডায়াবেটিস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং
সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিসের জন্য মূলত পারিবারিক প্রবনতা ,অধিক
মাত্রার খাদ্যগ্রহণ, মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তে চর্বির পরিমান
বেড়ে যাওয়া, গর্ভাবস্থা, মানসিক চাপ, বিষন্নতা, কম শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদির
যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে ওজন বেড়ে যাওয়াকে ডায়াবেটিসের অন্যতম
প্রাথমিক কারন হিসেবে ধরা হয়। এই রোগটি অন্যান্য রোগ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বেশীরভাগ রোগই হয় জীবাণু দ্বারা আক্রমণের জন্য। কিন্তু ডায়াবেটিস হয় শরীরের বিশেষ
অংশ ঠিকমত কাজ না করার জন্য। তাই সুশৃংখল জীবন-যাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ
করা সম্ভব।
প্রেক্ষাপটঃ
বাংলাদেশে
প্রায় ৮০ লাখ লোক এই রোগে ভুগছে। চল্লিশোর্দ্ধ বয়সের জনগোষ্ঠীর প্রায় শতকরা ১৮ জন
মানুষ এই রোগ বা এর জটিলতায় ভুগছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ লোকই জানেন না যে তারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন। অসচেতনতা
বা উপসর্গহীনতার কারনেই তারা তা জানেন না। আর সারা বিশ্বে এই সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি
যা দ্রুতহারে বেড়ে চলেছে।
কিভাবে
হয়?
ডায়াবেটিস এমন এক সমস্যা যখন শরীরের প্যানক্রিয়াস
বা অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরী করতে পারে না অথবা করলেও সেই ইনসুলিন ঠিকমত কাজ করতে
পারে না। আমরা যে সকল শর্করা খাই যেমনঃ ভাত, রুটি, আলু, ফল ইত্যাদি পাচনকালে হজম
হয়ে তৈরী হয় গ্লুকোজ। গ্লুকোজ তখন অন্ত্র পেরিয়ে
রক্তে ঢুকে। সেখানে ইনসুলিনের সঙ্গে দেখা হয় গ্লুকোজের। প্যানক্রিয়াসের কিছু কোষ থেকে ইনসুলিন নামক
হরমোন ঝরে। আর ইনসুলিনের কাজ হলো গ্লুকোজকে ধরে ধরে পেশীকোষ, মেদকোষসহ দেহের
বিভিন্ন কোষে ঢোকানো। অর্থাৎ ইনসুলিন তালা খুলে দেয়, আর গ্লুকোজ প্রবেশ করে।
গ্লুকোজ কোষে ঢোকার পর দহন হয়, তৈরী করে শক্তি। সেই শক্তি হলো সমস্ত কাজ করার
শক্তি। ইনসুলিনের অভাব হলে গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে না পেরে জমা হতে থাকে। বাড়ে রক্তে
গ্লুকোজের পরিমান। আর এটাই হলো ডায়াবেটিস। 
No comments:
Post a Comment