Sunday, April 8, 2012

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১২


আজ ৭ই এপ্রিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। বাংলাদেশের মত সারা পৃথিবীজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের থিম বা প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-“বার্ধক্যের স্বাস্থ্য”। সক্ষম প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ও সমাজ কি করতে পারে তা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। দেশের জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ প্রবীণ। প্রবীণ জনগোষ্ঠী আমাদের গৌরব ও শ্রদ্ধার পাত্র। প্রবীণদের ত্যাগ, শ্রম আর মেধার উপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে আমাদের আজকের এ সমাজ ও পৃথিবী।


আমাদের দেশ ও সারাবিশ্বে বয়োবৃদ্ধ তথা ষাটোর্দ্ধ লোকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বর্তমানের চেয়ে এই সংখ্যা চারগুন বেড়ে যাবে ২০৫০ সালের মধ্যে। অনেক দেশেই মানুষের গড় জীবনকাল এখন ৭৫-৮০ বছরের কাছাকাছি চলে গেছে। আর এই ধরনের অর্জন হয়তো একসময় আমাদের পরিবার ও সমাজকে ভালো সুযোগ ছাড়াও অন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দিবে। সময়ের এই অসংখ্য প্রবীন হয়ে উঠবেন ভালো কাজের উআর অভিজ্ঞতার আধার। আমাদের পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই কমতে শুরু করেছে। এতে একসময় বয়োবৃদ্ধ লোকের সংখ্যা বেশী হবে শিশুদের থেকে। বর্তমানে অনুন্নত গরীব দেশেও মানুষ খুব একটা মরতে দেখা যায় না সংক্রামক ব্যাধি বা জীবানু বাহিত রোগে। বরং হার্টের অসুখ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের পুরানো অসুখ কিংবা ক্যান্সার বেশী দায়ী থাকে মৃত্যুর জন্যে।

কি কি সমস্যা হতে পারে? যেহেতু প্রবীনদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে-বার্ধক্যে স্বাস্থ্য ভালো ও শারীরিকভাবে কিছুটা সক্রিয় না থাকলে বেশ কিছু সমস্যার সৃষ্টি হবে। যেমনঃ স্বাভাবিক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ পড়বে। পরিবার ও সমাজের খরচ বহুলাংশে বেড়ে যাবে। দেখভাল করার লোকের অভাব থাকায় এক ধরনের বিরক্তি ও হতাশার সৃষ্টি হবে। পেনশন তথা সরকারী কোষাগারে চাপ পড়বে। একাকীত্বের যন্ত্রণা ও অসহায়ত্ব বাড়বে। প্রাকৃতিক দূযোগে ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে। তবে অনেক ভালো দিকও আছে। তারমধ্যে সমাজে বয়োবৃদ্ধরা রিসোর্স ব্যাক্তি হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তাদের কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থেকে অসংখ্য মানুষ উপকার পাবে। তাছাড়া সমাজের বিপদের সময় ভলান্টিয়ার বা কমিউনিটি নেতৃত্বে থাকতে পারবেন।

আমাদের দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠী যে সকল রোগ ও শারীরিক সমস্যার শিকার হন, সেগুলো সময়মত সঠিক স্বাস্থ্য সেবাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। রোগবালাই ছাড়াও মূলতঃ চারটি শারীরিক অক্ষমতা তাকে অসহায় ও পরনির্ভরশীল করে তোলে। যা হলো-দৃষ্টিগত সমস্যা, কানে কম শোনা, ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া ও বুদ্ধিদীপ্ত কাজে অক্ষম হওয়া), হাড় ও জয়েন্ট-এর প্রদাহে ভোগা। বার্ধক্যে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন জীবনের প্রথম ভাগ থেকেই পরিমিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রমে অভ্যস্ত থাকা। পড়ে যাওয়া রোধ করতে হবে। কেননা বয়সকালে ভাঙ্গা সারতে দেরী হয় ও বড় ধরনের জটিলতাসহ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দেওয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা। বৃদ্ধ বয়সভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি করে সামাজিক কাজে তাদেরকে অংশগ্রহনে সুযোগ করে দিতে হবে। সমাজের মানুষকে এসব কাজে এগিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবীণদের কল্যাণে পযাপ্ত চিকিসা ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে তাঁরা সমাজের বোঝা না হয়ে উপাদনক্ষম মানব সম্পদ হিসেবে জাতীয় উন্নয়নে মূল্যবান অবদান রাখতে পারবেন।