Wednesday, October 12, 2011

দৃষ্টি সবার অধিকার

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস - প্রতি বছরের মত আজ ১৩ই অক্টোবর সারা পৃথিবীজুড়ে পালিত হচ্ছেবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ দিবস হিসেবে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার সাড়ম্বরে এ দিবসটি পালন করা হয়ে থাকেযার মূল উদ্দেশ্য হলো- যে সমস্ত অন্ধত্ব ও দৃষ্টি সমস্যা প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসার মাধ্যমে নিরসনযোগ্য, সে সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করা

অন্ধত্ব বা অন্ধত্বের কাছাকাছি সমস্যায় ভুগছে এমন মানুষদের সংখ্যা পৃথিবীতে প্রায় ২৯ কোটি। যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটি মানুষ সম্পূর্ন অন্ধ ও প্রায় ২৫ কোটি মানুষ মারাত্মক দৃষ্টি সমস্যার কারনে ভুগছে। এদের মধ্যে আবার শতকরা সত্তর ভাগ যারা পঞ্চাশোর্ধসমস্ত অন্ধত্বের প্রায় ৯০ ভাগই বাস করে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে। এসবের মধ্যে আশি ভাগ মানুষকে অন্ধত্বজনিত রোগ থেকে প্রতিরোধ বা চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভবঅর্থাৎ নিরসনযোগ্য। এ সম্পর্কে আমরা মোটেও সচেতন নইবয়স হলেই কম দেখবে এটা একটা ভ্রান্ত ধারণাএকজন বয়স্ক বৃদ্ধ মানুষও যে একজন সুস্থ স্বাভাবিক যুবক-যুবতীর মতই দেখতে পারে, এটা আমরা কেউই বিশ্বাস করতে চাই না আর তাঘরে বসে নিজের বয়সটাকে দায়ী মনে করে অবস্থাটা মেনে নে অথবা কিছু ক্ষেত্রে বয়সকে অভিশাপ দিয়ে থাকিঅথচ আজ চক্ষু বিজ্ঞানের অগ্রসরতা প্রমান করে ছেড়েছে একজন বয়স্ক মানুষও সুস্থ সুন্দর সবল চোখের মাধ্যমে বৃদ্ধকালীন জীবনকেও কি রকম দৈনন্দিন সক্ষম ও সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারেপড়তে, লিখতে এবং সমস্ত কাজ করতে পারেন আর দশটা যেকোন স্বাভাবিক মানুষের মতইকোন পার্থক্য নেই

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অন্ধত্বে ভুগছে যার মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্বের পুরানো রোগী রয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লাখএর সংগে প্রতি বছর আরো ১৫ হাজার রোগী যোগ হচ্ছেশিশু অন্ধত্বের সংখ্যাও বর্তমানে প্রায় চল্লিশ হাজারতাছাড়া বিশ্বে প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে একজন অন্ধত্বের কবলে পতিত হচ্ছেবাংলাদেশে বয়স্ক অন্ধত্বের প্রধানকারন সমূহ হচ্ছে- ছানি, গ্লুকোমা, পাওয়ার জনিত দৃষ্টি সমস্যা, কর্ণিয়ার অস্বচ্ছতা ইত্যাদি। তাছাড়া ডায়াবেটিস, ব্লাড-প্রেশার ও বয়সজনিত কারনে চোখের অন্তঃ পর্দার (রেটিনা) জটিল পরিবর্তনও উল্লেখযোগ্য ভাবে দায়ী

২০২০ সালের মধ্যে এসব নিরসনযোগ্য অন্ধত্বকে উচ্ছেদ করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়েছে ব্যাপক কর্মসূচীযা বাংলাদেশেও পরিচালিত হচ্ছে বেশ জোরেশোরেতাই আমাদের সবার উচিত হবে সহযোগীতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজ থেকে এ সমস্যা দূরীকরনযার প্রত্যক্ষ সুফল পাবে এ সমাজেরই গরীব-বড়লোক সবাই, একটি কর্মদক্ষ সুন্দর জীবন-যাপন উপভোগ করার মাধ্যমে

Friday, September 2, 2011

একটা বিড়ি আর এক কাপ লাল চা

যে দেশে একটা বিড়ি আর এককাপ লাল চা দিয়ে একটা ভোট কেনা যায় পাঁচ বছরের জন্য, সেখানে ভোটের মাধ্যমে সংসদ ও সরকার গঠিত হলেও সত্যিকার অর্থে গনতন্ত্র পাওয়া বা প্রতিষ্ঠা করা বাতুলতা মাত্র। তা এখনও সূদুর পরাহত। আমাদের দেশে যখন জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে ঠিক লোককে নির্বাচিত করতে, সেদিনই গনতন্ত্র অর্থবহ হবে। যতদিন সরাসরি মার্কাতে ভোট হবে অর্থাৎ BNP বা AL করি বলেই বিবেক বিসর্জন দিয়ে আর চোখ বন্ধ করে তা বৈধ করবো, ততদিন সে আশা দূরাশা।
এই দেশে এমন একটা ভাব AL না করলে সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করতে পারবে না। ভাবটা এমন দেশটা শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ স্বাধীন করে ছিলো। আসলে এই দেশের মানুষ খুব ভালো। কোন কিছুই বেশি দিন স্মরণে রাখতে চাইনা (Basically তাদের স্মৃতিশক্তি খুব দূর্বল-এটা প্রমানিত সত্য) এদেশে যে সব ঘটনা ঘটে, অন্য কোন দেশ হলে তা এক হাজার বছর মনে রাখতো। ১৯৭১-এর কথায় তার বড় প্রমান। আমাদের জায়গায় ঐ পাকিস্তান হলেও তারাই আমদেরকে ভুলতনা বহুবছর। অথচ আজ আমরা তাদের ও তাদের সহযোগী শক্তিদের ভুলে গেছি। এদেশে শুধু শুধু লাফালাফি চলে। কাজের কাজ কিছুই হয়না বা করতে দেওয়া হয়না। দূর্নীতি এখন আমাদের রক্তের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। দেশ clearly এখন দুটো ধারায় বিভক্ত। এমনকি ওলামা পরিষদ আর মৎস্যজীবি জেলে পরিষদও। এ জোড়া লাগতে কয়শো বছর লাগবে কেউ কি বলে দিবেন? আমি নিশ্চিত কেউ জানেনা। আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে ততদিন পর্যন্ত, যতদিন সেই নেতা না আসবে.....................

Thursday, April 7, 2011

জীবাণুনাশকের অকার্যকারিতা ও এর বিশ্বব্যাপী বিস্তার



আজ ৭ই এপ্রিল। বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস। এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- জীবাণুনাশকের অকার্যকারিতা ও এর বিশ্বব্যাপী বিস্তার

চারপাশ থেকে আমাদের শরীরে প্রতিনিয়তই জীবাণুর আক্রমণ চলছে- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবি ও ফাঙ্গাস দ্বারা। কিন্তু শরীরের নিজস্ব সহজাত ক্ষমতা তা প্রতিরোধ করে। আর যখন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তখনই লাগে নির্দিষ্ট ঔষধ দিয়ে জীবাণু মারার প্রচেষ্টা চালানো। যখন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্নভাবে ভেঙ্গে পড়ে তখন সর্দি, কাশি বা ফ্লু-র মত সাধারন সংক্রমণেও মানুষ মারা যেতে পারে। যেমনটি এইডস এর ক্ষেত্রে ঘটে। তাই এখনই প্রয়োজন জীবন বাঁচাতে অ্যান্টিবায়োটিকের পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিতকরন। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকাতে প্রতি বছর সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরন করে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা পাচ্ছে, রোগের বিস্তার কমছে। কিন্তু বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা অনেক জীবাণু নিয়ন্ত্রনকে অসাধ্য করে তুলেছে। ইচ্ছামত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে যক্ষা, এইচআইভি এইডস, যৌনবাহিত রোগ, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ার মত রোগ প্রতিরোধে অনেক প্রচলিত ঔষধ ঠিকমত কাজ করছে না। তাই এব্যাপারে আমাদের দ্রুত অধিকতর সচেতন হতে হবে এবং সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারন দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দশক আগে যে ঔষধ রোগ-জীবাণুর বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘটিয়েছিলো, আজ তাতে তেমন কাজ হচ্ছে না। তাছাড়া অনেক সময় জীবাণুর বিরুদ্ধে ঔষধসমূহ কাজ করে না নানাকারনে। এর প্রধান কারন মূলতঃ অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার, প্রাকৃতিক নিয়মেই জীবাণুদের ঔষধের বিরুদ্ধে আরো অপ্রতিরোধ্য হওয়া ও উক্ত গুণ তাদের বংশ পরস্পরায় বয়ে নিয়ে যাওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্পমাত্রার ডোজ ব্যবহার করা, নিম্নমানের ঔষধে সঠিক পরিমানে ঔষধ না থাকা, নির্দিষ্ট রোগের জন্যে সঠিক ঔষধ সেবন ও তার পুরো কোর্স সম্পন্ন না করা। সংক্রমণ প্রতিরোধে দূর্বল নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা, হাঁস-মুরগী, পশু পালন ও মৎস্য চাষে নিম্নমাত্রা ও বিধি বহির্ভূত ঔষধ ব্যবহার, অপ্রতুল রিসার্চের মাধ্যমে নতুন ঔষধ আসতে দেরী হওয়া ও অপ্রতিরোধ্য জীবাণু চিহ্নিত করতে না পারা, হাসপাতালে রোগীর দীর্ঘদিন অবস্থান ইত্যাদি। এসব থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন অ্যান্টিবায়োটিক-এর পরিমিত ব্যবহারের উন্নতিকরন ও অপ্রতিরোধ্য জীবাণুর পরিবাহিত হওয়ায় বাধাদান। আসলে অ্যান্টিবায়োটিকের এমন অবিবেচনাপ্রসূত ব্যবহারে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ছে। সহজে রোগ সারছে না, দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, মৃত্যুর হার বাড়ছে ও দামী ওষুধের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। তাই এর অকার্যকারিতা রোধে প্রয়োজন একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয় ও বাস্তবায়ন করা। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োগে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্টদেরকে ও সংশ্লিষ্ট অন্যদেরকে দক্ষ করে তোলা। হাসপাতালে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রনে কমিটি গঠন ও এর কার্যক্রম নিশ্চিত করা। মানসম্মত ঔষধ উৎপাদন, বাজারজাতকরন ও বিধিবদ্ধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করা। তা না হলে কোন পার্থক্য থাকবে না পৌরণিক কাল ও ভবিষ্যতের মাঝে। বহু বছর আগে মানুষ মারা যেত অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ছিল না বলে অতি সাধারন রোগে ভুগে । আর ভবিষ্যতে মানুষ মরবে এর অপব্যবহারের ফলে অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েও জীবাণুর বিরুদ্ধে কোন কাজ হবে না বলে। অতএব সাধু সাবধান! এখনই সময় সমাজের সবাইকে সচেতন করার।