Monday, April 13, 2009

পারমাণবিক বিদ্যুৎ : চিন্তা বিলাস নাকি বাস্তবতা?

বর্তমানে যে কোন দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। প্রযুক্তিকে সঠিক সময় গ্রহন না করে পিছিয়ে পড়াটা এই যুগে আত্মহত্যারই শামিল। বিদ্যুৎ শক্তির অভাব বর্তমানে প্রকট আকার ধারন করেছে। এই কয়েকদিন আগেও মাননীয় অর্থমন্ত্রী সাহেব বলেছেন, আগামী তিন বছরেও চাহিদা মত বিদ্যুৎ পাওয়া বা তার কোন সমাধান হবেনা।
আমাদের দেশে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরীর প্রধান উৎসগুলো হলো, প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি, তেল ও কয়লা। প্রাকৃতিক গ্যাস, যার অধিকাংশই সাম্রাজ্যবাদী কিছু কোম্পানীর কাছে দায়বদ্ধ। তারা পূর্বের সরকারগুলোকে গ্যাসের মজুদ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখিয়েছিল, শুধুমাত্র অত্যাধিক পরিমানে আহরণ, বিক্রি ও বিদেশে রপ্তানীর পরিকল্পনা করে অল্পসময়ে প্রচুর মুনাফা লাভের আশায়। আমাদের কি ক্ষতি হবে তাতে তাদের কোন মাথাব্যাথা থাকার কথা নয়। এজন্যেই তারা কর্পোরেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বাপেক্সকে সুপরিকল্পিত ভাবে পঙ্গু করে রেখে।
গ্যাসের বাজার ভ্যালু কম হওয়ায় এটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং বড় আকারে তার জন্যে প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলো গ্যাসের ব্যবহারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অদূরদর্শী ও অদক্ষ কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। এখন সেইসব কয়েকশ কোটি টাকার প্ল্যান্টগুলো গ্যাসের অভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আসলে গ্যাস নিজেই একটি শক্তি। তাকে রূপান্তর করে অন্য শক্তিতে নেওয়ার প্রয়োজন কি? গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়া মানে সারের দাম তথা চাউল সহ সকল শস্যের দাম কি পরিমান বাড়বে, সেটা কল্পনা করতেও ভয় হয়। গ্যাস শেষ হওয়া মানে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেখা দিবে স্থবিরতা। যার আলামত আমরা ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছি। এজন্যে আমাদেরকে অনেক আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। অন্য যে উৎস্যগুলো রয়েছে তা হলো পরমাণু বিদ্যুৎ, বায়ুকলচালিত বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োডিজেল। পরমাণু বিদ্যুৎ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো এখনো সম্পুর্ণ সমাধান নয়। তাছাড়া সৌরবিদ্যুৎ খুবই ব্যয়বহুল ও আমাদের মতন বর্ধিষ্ণু কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অপর্যাপ্ত। বর্তমানে আমাদেরকে দ্রুত স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের দু’টি পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদের সামনে ক্রমবর্ধমান বিপুল চাহিদার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের একটিই পথ খোলা আছে, আর তা হল পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
প্রশ্ন উঠতে পারে এটাতো ব্যয়বহুল এবং এত বৃহৎ ও কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যান্ট আমরা কি চালাতে পারবো? অবশ্যই পারবো। আমাদের ভালো ভালো সুদক্ষ প্রকৌশলীরা বিদেশে গিয়ে তাদের গবেষণা ও পেশাগত সাফল্য দেখাচ্ছে। তাতে পৃথিবীর বহুদেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে আমাদের মেধাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে। সুতরাং উঁচুমানের ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসলে তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেনা। শুধু প্রয়োজন আমাদের কৃচ্ছতা সাধনের মানসিকতা তৈরী। সমস্ত সরকারী-বেসরকারী অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান আর দিবস পালনের নামে শতকোটি টাকা ব্যয় কমাতে হবে। প্যারেড গ্রাউন্ডের ওপর দিয়ে ডগ-ফাইট দেখার জন্য মিগ-২৯ বিমান কেনা বন্ধ করতে হবে।
একটি অতি প্রয়োজনীয় সেক্টরে টাকা বিনিয়োগে সমস্যা কোথায়? এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার জন্য যতদ্রুত সম্ভব পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প একান্ত জরুরী। কারন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে প্ল্যান্টের ফিজিবিলিটি টেস্ট, প্রসেস লাইসেন্সিং, ভ্যান্ডরদের মেশিনারীজ সাপ্লাই ও কমিশনিং স্টার্টআপ করতেই ৩-৪ বছর লেগে যায়। এছাড়া দেশের বৃহৎ শিল্পায়নে কোন ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশন ছাড়া নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পারমানবিক শক্তি অপরিহার্য। এপ্রসঙ্গে বলা যেতে পারে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে জনসংখ্যার তুলনায় রয়েছে বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ ও বিপুল বৈভব। যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত ও চিত্রটা ঠিক এর উল্টো। তাই আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে পারমাণবিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে বিদ্যুত উৎপাদন বেশী জরুরী, যতটা না তাদের। খুব অল্পসময়ে তেল, গ্যাস ও পাথুরে কয়লা প্রভৃতি ফসিল জ্বালানী শেষ হয়ে যাবে। তাই আমাদের এই স্বল্প সম্পদের ব্যবহারকে করতে হবে ন্যুনতম ও সর্বোত্তম পদ্ধতিতে।
পারমানবিক বর্জ্যের কি হবে? সেটার জন্য রয়েছে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা পারমানবিক বর্জ্য ট্রিটমেন্ট করে। আবার এটাও আশঙ্কা করা স্বাভাবিক, চেরনোবিলের মত দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু? আসলে প্রযুক্তি এই গত দু'দশকে অনেক এগিয়েছে। এখন ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের ফুয়েল রডের স্থলে পিবল বেড রিএ্যাক্টর ব্যবহার করা হয় যা প্রায় একশত ভাগ নিরাপদ। তাছাড়া এটা নিয়ে আমাদের অত ভয় নেই। কেননা আমরা নিউক্লিয়ার জ্বালানী পরিশোধন বা উৎপাদনের কোন কৌশল হস্তগত করতে চাইছিনা। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানী ব্যবহৃত হয় তা দিয়ে কোন ভাবেই ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র বা ঐ গ্রেডের জ্বালানী প্রস্তুত সম্ভব নয়। তাই এদিক থেকে আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
আনন্দের কথা, বাংলাদেশ খুব ধীরে ধীরে হলেও পরমাণু বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর জন্যে নতুন আইন হচ্ছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু কনভেনশনে স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। হবে। গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়। ২০৫০ সাল পর্যন্ত ৮টি উন্নয়নশীল দেশকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে জাতিসংঘ, তার মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম। বর্তমানে রাশিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন বাংলাদেশকে আর্থিক ও কারিগরী সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। উচ্চ পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ১০০০ মেগাওয়াট সম্পন্ন ২ টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের। প্রচলিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে দেড়গুন বেশি খরচ হয়। তবুও বর্তমানে এটি কোন কল্পনা-বিলাস নয়। বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোন উন্নয়নের জন্যে এখন এটি বাস্তবতা। তর্ক-বিতর্ক থাকবেই। কিন্তু এরমধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে সোনালী ভবিষ্যতের দিকে। কিন্তু পাবনার রূপপুরের পরমাণু প্রকল্পের মত কোন অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে এ উদ্যোগ যেন আবারো ব্যর্থ না হয়। আমাদের আশা বাংলাদেশ সফল হবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে।



web counter


ইন্টারনেটঃ প্রযুক্তির এক বিষ্ময় বিশ্ব!

বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো। অস্কারের উপর কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য তার একান্ত দরকার। ঠিকঠাক মত কোথাও খুঁজে পাচ্ছেনা। আবার কিছু বলতে গেলেও তা মানতে নারাজ। মহামুশকিল। আসলে তথ্যগুলো ঠিকমত কোথায় রয়েছে সেটা মনে করতে পারছেনা এ মূহুর্তে। কোন সমস্যা নেই! আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটার দিয়ে ইন্টারনেটের অন্তঃহীন বিশ্বে লগইন করুন অথবা সার্চ দিন, দেখবেন মূহুর্তে লাখ লাখ তথ্য এসে হাজির আপনার মনিটরের পর্দায়। পেয়ে যাবেন যা খুঁজছিলেন। ইন্টারনেট হলো ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে বা তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়ক। সারাবিশ্বে লাখ লাখ নেটওয়ার্ক একসূত্রে গেঁথে তৈরী হয়েছে এই মহাসড়ক। যার মাধ্যমে কোটি কোটি ব্যবহারকারীরা নিজেদের মাঝে করতে পারে তথ্য ও ভাবের বাধাহীন বিনিময়।

১. আদিকথাঃ
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের দিকে একদল উৎসাহী বিজ্ঞানী যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূলে বদলে দিতে ভিন্নধর্মী গবেষনা শুরু করেন। উদ্দেশ্য এমন এক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা দ্রুত তাদের চিন্তা ও মতামতের বিনিময় ঘটাতে পারেন। প্রকল্পের নাম ছিলো আরপানেট(ARPANET)। সেসময় সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার থেকেও তথ্য নিতে হলে ম্যাগনেটিক টেপ বা ছিদ্রযুক্ত কার্ড ব্যবহার করতে হতো। পরবর্তী পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। জন্ম নেয় নিউজগ্রুপ USENET-এর, যার পরিচিতি এখন বিশ্বব্যাপী। ১৯৯০ সালে এসে আরপানেট পরিবর্তিত হলো ইন্টারনেট-এ।
২. দায়িত্ব কার?
এই যে সারাবিশ্বজুড়ে এতবড় একটি নেটওয়ার্ক তার কিন্তু কোন কেন্দ্রীয় দফতর নেই। নেই কোন একক কর্তৃত্ব। প্রতিটি নেটওয়ার্ক তাদের নিজস্ব পদ্ধতি, নিয়ম ও ব্যবস্থাপনায় চলে। তবে ইন্টারনেটের মূল কাঠামোটি রক্ষনাবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডশন (NSF)। তাছাড়াও রয়েছে কিছু ইন্টারনেট সোসাইটি।। যারা নেটওয়ার্ক তৈরী, মান-নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকগুলো দেখে থাকে।
৩. কি কি সুবিধা দেয় ইন্টারনেট?
সরকারী-বেসরকারী সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা যেকোন একক ব্যবহারকারী তাদের সংযোগের ধরনের ভিত্তিতে নীচের সুবিধাগুলো পেতে পারেন-
০১) ই-মেইল (E-mail)
০২) ভিডিও ফাইল দেখা (Youtube)
০৩) ভয়েস মেইল, ভয়েস চ্যাট ও ভিওআইপি
০৪) ভিডিও কনফারেন্স ও ভিডিও টেক্সট
০৫) ফাইল ট্রান্সফার (FTP)
০৬) সংবাদ (Usenet)
০৭) বুলেটিন বোর্ড সার্ভিসেস (BBS/RSS)
০৮) দূরবর্তী লগইন (Telnet)
০৯) ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ই-ক্যাশ ও কেনাকাটা
১০) Wi-Fi ও WIMAX-এর সুবিধাসমূহ
১১) মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি
৪. কিভাবে কাজ করে?
বর্তমানে ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে বড় তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম। এই তথ্য বা ডেটা চলাচল করে নেটওয়ার্ক বা কমিউনিকেশন লাইনের মাধ্যমে একটি নিয়মের অধীনে, যাকে বলা হয় “প্রটোকল”। দু’ধরনের প্রটোকল সাধারনতঃ ব্যবহৃত হয়। ট্রান্সমিশন প্রটোকল (TCP) এবং ইন্টারনেট প্রটোকল (IP)। টিসিপি প্রাথমিক তথ্যকে ভেঙ্গে টিসিপি প্যাকেট তৈরী করে। আর আইপি ঐ টিসিপি প্যাকেটগুলো ভেঙ্গে আরো ক্ষুদ্রতর প্যাকেট তৈরী করে। ক্ষেত্রে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যেতে আরো দু’টো প্রটোকল Serial Line Internet Protocol(SLIP) ও Point to Point Protocol(PPP)-এর প্রয়োজন হয়। এরপর প্যাকেটগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্য বা ঠিকানায় দ্রুত পৌঁছাতে ঘুর পথে না গিয়ে সবচেয়ে সোজা পথটি ধরে। আমাদের দেশে এই তথ্য দেশের বাইরে আসা-যাওয়া করে মূলত সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথে V-SAT বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। সাবমেরিন কেবলের উপর BTRC এর পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে। তারা যেকোন সময় যেকোন ওয়েব সাইটে প্রবেশ বন্ধ করার অধিকার সংরক্ষন করে।
৫. ইন্টারনেট ঠিকানাঃ
যে কোন তথ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্যে স্বাভাবিকভাবেই একটি ঠিকানা প্রয়োজন। ইন্টারনেটে ঠিকানার এই পদ্ধতিকে বলা হয় Domain Name System (DNS)। DNS ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত সব Host কম্পিউটারকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে একটি Domain নাম দেয়। সর্বোচ্চ Domain সাধারনতঃ হয় দেশের নাম। যেমন যুক্তরাজ্যের জন্যে .uk, যুক্তরাষ্ট্রের .us, চীনের জন্যে .cn, বাংলাদেশের .bd ইত্যাদি। পরের স্তরের Domain হয় প্রকারভেদের উপর। যেমন edu(Education), org(Organization), net(Network), gov(Government), ac(Academic), com(Commercial) ইত্যাদি। তার পূর্বে সাধারনত Domain Provider-এর নাম থাকে। যেমনঃ www.mathabhanga.com।
৬. কিভাবে যুক্ত হওয়া যায়?
ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়ার জন্যে প্রাথমিকভাবে দরকার একটি কম্পিউটার, একটি সংযোগ লাইন ও একটি মডেম। মডেম (Modulator-Demodulator) হলো এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটালে এবং ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগে রূপান্তরিত করার যন্ত্র। মডেম সাধারনতঃ ডায়াল আপ, জিপিআরএস বা এজ প্রকৃতির হয়ে থাকে। যে সকল মোবাইল সেট-এ GPRS বা EDGE সুবিধা আছে, সেগুলো মডেম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া যেসব LAN বা WAN ব্রডব্যান্ড-এর সঙ্গে যুক্ত, তার অন্তর্ভূক্ত হয়েও ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়।
৭. বাংলাদেশে বর্তমান সংযোগের রকমফেরঃ
ইন্টারনেটে যুক্ত হতে মূলতঃ কিছু পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ
ক) বিটিআরসি বা অন্য বেসরকারী ল্যান্ডফোন লাইন বা ডায়াল আপ।

খ) ব্রডব্যান্ড লাইন যা সাধারনতঃ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা (ISP) দিয়ে থাকে। তারা BTRC-
এর কাছ থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে চালিত ব্যান্ডউইথ কিনে তা আবার গ্রাহকদের কাছে
বিক্রি করে। ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞানুযায়ী যে গতি পাওয়া সম্ভব তা কখনোই পাওয়া যায়না ISP
ওয়ালাদের অতিমুনাফাখোরী মনোবৃত্তির কারনে।

গ) ওয়্যারলেস বা তারবিহীন নেটওয়ার্কঃ এটি মূলতঃ মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো একই পন্থায়
ব্যান্ডউইথ কিনে তার গ্রাহকদের দেয় কাছে গলাকাটা দামের বিনিময়ে।

ঘ) WiFi বা WiMAX হলো তারবিহীন নেটওয়ার্ক। ভারতসহ অনেকদেশে খুব অল্পখরচে WiFi পরিচালিত হলেও এর ডেটা ট্রান্সফার রেট ও টাওয়ারের এলাকা কভারেজ সীমিত হওয়ায় খুব বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। WiFi পরিপূর্নভাবে জায়গা করে নেওয়ার আগেই বাংলাদেশে এই বছরের মাঝামাঝি চলে আসবে উন্নততর সেবা নিয়ে WiMAX নেটওয়ার্ক। বলা যায় এটা WiFi-এর উন্নততর সংস্করন যা উচ্চগতিসম্পন্ন। এর এলাকা কভারেজও হবে অনেক বেশি। এরই মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১১০ টি দেশে এই নতুন প্রযুক্তি চালু হয়ে গেছে। এপ্রযুক্তি এলে অনেক সুবিধার মাঝে IP মোবাইল ফোন, এফ এম, ATM সংযোগ, রেডিও, দ্রুততার সঙ্গে ভিডিওচিত্র আদান-প্রদান ছাড়াও পাওয়া যাবে ট্রিপল প্লে সার্ভিস। যাতে একসঙ্গে টেলিভিশন (IP TV) দেখার ব্যবস্থা, ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেটে কাজ করা যাবে। বর্তমানে অনেক মোবাইল সেট GPRS সম্বলিত হলেও এখন পর্যন্ত WiMAX সুবিধা নেই। তবে অদূর ভবিষ্যতে তা সেটগুলিতে চলে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশের মত নদী-নালা আর খাল-বিলের দেশে তারহীন প্রযুক্তি WiMAX-এর মাধ্যমেই সম্ভব উচ্চগতির ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেওয়া। যেমনটি ঘটেছে মোবাইল ফোন সেবার ক্ষেত্রে দেশজুড়ে। তবে মনে হয় মোবাইল কোম্পানীর 3G সার্ভিসের সঙ্গে WiMAX-এর একটা টক্কা লাগবে ও কষ্টকর বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হতে পারে।

উন্নতবিশ্ব তথা আমাদের দেশের মানুষও ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রবেশ করছে তথ্য সাম্রাজ্যের এক মহাজগতে। অসংখ্য মুক্তমনা মানুষ এই তথ্য জগতকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে তুলছেন তাদের মেধা প্রকাশ ও ব্লগ লেখার মাধ্যমে। ইন্টারনেট সত্যিকার অর্থেই বিশ্বকে এনে দিয়েছে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের ছোট পর্দায়। তাই একে এড়িয়ে থাকা আর অচলায়তনে বন্দী থাকা হবে একই কথা।




web counter