Tuesday, March 10, 2009

দলীয় রাজনীতির সংশ্রবে বৈধ যখন অনৈতিকতা

চিকিৎসকের অনৈতিক সাহায্য নিয়ে ভি. আই. পি. বন্দীরা হাসপাতালে অবস্থান করছেন। কারাকর্তৃপক্ষও নাকি কিছু করতে পারছেনা চিকিৎসকের অসহযোগীতার কারনে। মনগড়া ও ভূয়া রিপোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারনে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে উপরের পদ্গুলোর চারজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আসলে এটা ঘটেছে স্বার্থ আর রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটের কারনে। এই উচ্চপদে অধিষ্ঠিত চিকিৎসকগণ বলি হয়েছেন এসব ক্ষেত্রে। আরেকজন প্রথিতযশা চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী যা করছেন তাও বিশ্লেষণের অবকাশ রাখে। তিনি একজন রাজনীতিকও। বর্তমানে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তিনি যা বলছেন বা যে মিথ্যাচার করছেন তার বিরুদ্ধে কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না। আর তার একমাত্র কারন তিনি আওয়ামী একজন। এখানে তার পেশাদার মিথ্যাচারের সাথী হচ্ছেন সবাই। কি অদ্ভুত দেশ! বাংলাদেশ।

আসলে কারাগারে যারা ছিলো, তাদের খুব কম সংখ্যকই প্রকৃত অসুস্থ ছিলো। কারণ তারা কারাগারের বাইরে আসামাত্রই পূর্বের...... মত লম্ফঝম্ফ শুরু করেছেন। সাকাচৌ-কে দেখুন না! যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তারা এখন রক্তাক্ত হচ্ছে বা এলাকা ছেড়ে বাঁচছে। সরকার এসব ব্যাপারে নির্বিকার। শেখ হাসিনা কারাগারে যখন ছিলেন মনে হচ্ছিলো তার হায়াত বুঝিবা আর অল্প কয়েকদিন আছে। কিন্তু যেইমাত্র বিদেশে গেলেন, ডাক্তারের কাছে রুটিন চেকআপ করা ছাড়া সমস্ত কর্মকান্ডেই অংশগ্রহন করেছেন। এমনকি ফিনল্যান্ডে বিয়ে-শাদীতেও সশরীরে হাজির হয়েছেন। এইতো হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিথ্যাচার। যতদূর জানতে পেরেছি তার চোখে যে গ্লুকোমা রোগ হয়েছে তার উন্নত চিকিৎসা এদেশেই আছে। তাছাড়া বাংলাদেশের এ চিকিৎসার বাইরে বিদেশে একরত্তিও বেশী চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো তার চোখে যে গ্লুকোমা হয়েছে তার নাম Open Angle Glaucoma-যা কখনোই হঠাৎ করে হয়না। এটা হতে অন্ততঃ ৮ থেকে ১০ বছর লাগে। আস্তে আস্তে চোখের ক্ষতি হয়। তাহলে প্রশ্ন এতদিন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ কি করছিলেন? এখন তার নিজস্ব চোখের ক্ষতির কারনে অন্য কাউকে ধরার পূর্বে মাননীয়া শেখ হাসিনার উচিৎ তাকেই আগে লটকানো। কারন উনিই সবচেয়ে আগে বিদেশে নেওয়ার জন্য চিৎকার করেছিলেন। আসলে সব ভাঁওতাবাজি। এখন র উচিৎ তার চিকিৎসার কাগজপত্র জনসম্মুখে প্রকাশ করা। কোনদিন কেউ কি তা জানতে পারবে? আমি নিশ্চিত কোন অবস্থাতেই আশাকৃত উন্নত-চিকিৎসা সেখানে হয়নি। কারন সেখানকার ডাক্তাররাই বলেছেন, যা হবার আগেই হয়ে গেছে, এখন খুব বেশি কিছু একটা করা সম্ভব না। বর্তমানে বাংলাদেশে চোখের চিকিৎসা যেকোন উন্নত দেশের মতই বা কাছাকাছি। আর গ্লুকোমার ব্যাপারে তো অবশ্যই। এই হলো ভি.ভি.আই.পি.-দের কৃত সমাচার।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর বার বার বলছেন আমরা হিংসা-মারামারির রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা। এটাতো তাকেই প্রমাণ করতে হবে। জনগণ কিভাবে ভুলে যাবে এইতো কিছুদিন আগে বিখ্যাত লগি-বৈঠার কথা। যার মাধ্যমে পুরো দেশটায় স্থবির হয়ে গেছিল, সবকিছু বন্ধ হয়ে পড়েছিল। হ্যাঁ, এদেশের সাধাসিধে মানুষ অতিদ্রুতই সবকিছু ভুলে যায়। স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল আমাদের।



web counter

No comments:

Post a Comment