Sunday, July 5, 2009

সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজিতে সমাজ ও গার্মেন্টস সেক্টরে অরাজক পরিস্থিতি

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পগুলো ধ্বংস করতে সুপরিকল্পিতভাবে হামলা করা হচ্ছে। নষ্ট করা হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রতিষ্ঠান। বেকার হয়ে পড়েছে চার হাজারের অধিক শ্রমিক। তাদের পরিবারগুলো চরম উৎকন্ঠায় ভুগছে। মাসের শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটায় গত মাসের বেতন নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন শ্রমিকরা। উল্লেখ্য গত ২৯ জুন দুপুরে বহিরাগত শ্রমিকরা সাভারের আশুলিয়ায় দ্যাটস নিট লিঃ নামে হামীম গ্রুপের কারখানা, মালামাল ও যন্ত্রাংশ পুড়িয়ে দিলে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলী মন্তব্য করছেন, গার্মেন্টস সেক্টরে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য শ্রমিক ও মালিকপক্ষ দায়ী এবং একই সঙ্গে অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান শ্রমিক অসন্তোষ ও মালিকদের বিলাসী জীবনকে বেশী দায়ী করেছেন। পূর্বে তিনি বিডিআর ঘটনায় তদন্তের আগেই মারাত্মক জঙ্গী ষড়যন্ত্র (পরে তদন্তে তা ভ্রান্ত প্রমানিত হয়) খুঁজে পেলেও এখানে তা পাচ্ছেন না। যদিও তিনি এসবের জন্য দায়ী ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করে বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বাংলাদেশে বেশকিছু গার্মেন্টস বিদেশী ও বাংলাদেশী যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা ঝুট নিয়ে চাঁদাবাজি ও গার্মেন্টসের নিয়োজিত ক্রেতাদের হুমকি প্রদান করায় বিদেশী নাগরিকরা রীতিমত হতাশ। যেকোন সময় অনেক গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও বিদেশী নাগরিকরা দিয়েছেন। এরমধ্যে সন্ত্রাসীদের গার্মেন্টসে ঝুট নিয়ে চাঁদাবাজিতে দেশী মালিকরা অস্থির। সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে জোরপূর্বক ঝুট নিয়ে যায় এবং পাশাপাশি মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে গার্মেন্টসের মালামাল আনা নেয়ার যানবাহন আটক করে মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এইসব সন্ত্রাসী কতিপয় রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

এরকম অরাজক অবস্থা চলতে থাকলে রপ্তানী খাতের এইসকল সেক্টর ধ্বংস হতে আর বেশী দেরী হবেনা। এমনিতেই গার্মেন্টস সেক্টর চরম প্রতিযোগীতার মাঝে পড়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর বাজার এখন ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মিশর, পাকিস্থান ও মধ্য এশিয়ার কিছু দেশের দখলে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া নতুনভাবে যোগ বা চাঙ্গা হতে যাচ্ছে শ্রীলংকা। বর্তমানে এলটিটিই গেরিলা বিরোধী যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর তাদের অর্থনীতি দিনে দিনে চাঙ্গা হচ্ছে এবং অতি অল্প সময়ে তা দক্ষিন এশিয়ার যেকোন দেশকে ছাড়িয়ে যাবে। সুতরাং আমাদের দেশে যেকোন সেক্টর, ব্যবসা ও ব্যাক্তি পর্যায়ে এই চাঁদাবাজির টুটি এখনই চেপে না ধরলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। সমাজে ইতিমধ্যেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অথচ এই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম ওয়াদা ছিল এই চাঁদাবাজি সম্পূর্ন বন্ধ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যেকোন মুল্যে এসব বন্ধ করা হবে সংক্রান্ত কথাগুলো এরমধ্যেই ফাঁকাবুলি হিসেবে প্রমানিত হয়ে গেছে। থানায় ওসি সাহেবরা আওয়ামী ক্যাডারদের ভয়ে আছে। কয়েক জায়গায় ধুমকি-ধামকি ছাড়াও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন তারা।

চাঁদাবাজি এখন রীতিমত এক শিল্প আকারে বিকাশ ঘটছে।

এখন সরকারের উচিত হবে ঘটনার ভিতরে গিয়ে অতিদ্রুত এসবের সমাধান করা। তা নাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ও শ্লোগান আগামী একশো বছরেও পূরন হবে না।

Tuesday, June 30, 2009

সোয়াইন ফ্লু : প্রতিরোধই উত্তম ব্যবস্থা

বর্তমানে সারাবিশ্বে এক আতঙ্কের নাম সোয়াইন ফ্লু। যদিও আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত নয়জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলেও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। এ রোগ ছোঁয়াচে ও মারাত্মক, তবে প্রতিরোধ করতে পারলে এই রোগ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই সাবধানতার এখনই সময়।

সোয়াইন ফ্লু’ কি?

সোয়াইন ফ্লু প্রধানতঃ শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ যা টাইপ “এ” ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। এটি মূলতঃ শূকরের হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে যে ভাইরাস এই ফ্লু সংক্রমনের পিছনে দায়ী তার সাবটাইপ H1N1 প্রজাতির। এতে যে জিন রয়েছে, সেগুলো এসেছে মানুষ, পাখি ও শুকরের ফ্লু ভাইরাস থেকে। তাই এটি তিনটি ভাইরাসের জিনের সংমিশ্রণে তৈরী একটি শক্তিশালী রূপ যা নিজেই মিউটেশনের মাধ্যমে প্রয়োজনে আবারো পরিবর্তীত নতুন রূপ সৃষ্টিতে সক্ষম।


১৯১৮ সালে স্পেন ও তৎসংলগ্ন ইউরোপে যে মহামারী ফ্লু হয়েছিল, তাতে প্রায় ৪ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। ১৯৫৭ সালে এটি আবারো দেখা দেয় এবং এশিয়াতে মারা যায় প্রায় ২০ লাখ লোক। ১৯৬৮ সালে ঘটে এর প্রাদুর্ভাব যা হংকং-এ ধরা পড়ে এবং এতে মারা যায় প্রায় ১০ লাখ লোক পৃথিবীজুড়ে। ১৯৭৬ সালে আবারো এটি দেখা যায় নিউজার্সিতে। আর এবার এটা গত দুইমাস আগে ধরা পড়ে মেক্সিকোতে মিউটেশন বা পরিব্যাক্তির মাধ্যমে ভয়ংকর রূপ নিয়ে।


এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৭০ টির বেশী দেশে সোয়াইন ফ্লু-তে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। মারা গেছে ২৬৩ জন। আক্রান্ত দেশগুলো মূলতঃ আমেরিকার সবগুলো দেশ, ইউরোপের কিছু অংশ ও এশিয়ার কিছু দেশ যেমন ভারত, চীন, জাপান ও থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এরোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ১৬।

সোয়াইন ফ্লু’র লক্ষণ কি কি?

এরোগে মূলতঃ জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যাথা, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, খেতে অরুচী, ক্লান্তি, গলাব্যাথা ও শেষে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সাধারনতঃ ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ৭-১০ দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হয় এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অপরজনে এরোগের বিস্তার ঘটে।

রোগ নির্ণয়ঃ

শ্বাসনালী, নাক বা গলা থেকে কফ বা সোয়াব নিয়ে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটআইইডিসিআর) ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে হয়। এটা কোন জেলা বা বিভাগীয় শহরে করা যায় না। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ডাক্তার সাহেবরাও কিছুটা অস্বস্তির মাঝে আছেন যা খুবই স্বাভাবিক।

চিকিৎসা ও টিকাঃ

চিকিৎসা আছে, তবে এরচেয়ে প্রতিরোধ বেশী গুরুত্বপূর্ন। বর্তমানে অসিলটামিভির (ট্যামিফ্লু) নামক ওষুধ কার্যকরী ও বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ ড্রাগ পাওয়া যায়, তবে কিছুটা দামী। সকালে ও রাতে ১টি ওষুধ ৫-৭ দিন খেতে হয়। রোগ না হওয়ার জন্য প্রতিদিন ১টি করে ট্যাবলেট ৬ সপ্তাহ খেতে হয়। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ট্যামিফ্লু ও রেলেনজা নামের দু’টি ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করলে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করতে হবে। মানুষের জন্য সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস প্রতিরোধে এখনো কোন টিকা আবিষ্কার হয়নি। তবে অদূর ভবিষ্যতে এর যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে H1N1 কে ঠেকানোর জন্যে।

প্রতিরোধ ও করণীয়ঃ

মুক্ত বিশ্বের এই যুগে সোয়াইন ভাইরাস দমন করা খুবই কঠিন। দেশের প্রবেশ পথগুলো যথা স্থল ও বিমান বন্দরে প্রবেশকারীদের স্ক্রিনিং ব্যবস্থাটা আরো জোরদার করতে হবে। এই ধরনের উপসর্গের রোগী পেলেই তাদেরকে আলাদা (Isolation) করে রেখে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যবেক্ষন করতে হবে। কারন এই আলাদা করে রাখার ব্যবস্থাটায় সবচেয়ে বেশী জরুরী। কেননা আমাদের দেশে এই ভাইরাসের সবচেয়ে বড় বন্ধু হলো অল্প স্থানে অধিক সংখ্যক লোক বাস করার পরিবেশ। একবার এই রোগ গ্রামে-গঞ্জে বা শহরে ছড়িয়ে পড়লে তা মহামারীর আকার ধারন করবে। কোনভাবেই তা আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবেনা। তাই এধরনের সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই আপনার কাছাকাছি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সিভিল সার্জন অফিসে খবর দিন। আমাদের দেশের স্বাভাবিক নিয়মানুসারে প্রারম্ভিকভাবে বেশ তোড়জোড় দেখা গেলেও বর্তমানে স্বাস্থ্য-সেবার সাথে যুক্ত প্রশাসনিক মাধ্যমগুলোতে কিছুটা স্তিমিতভাব পরিলক্ষিত করা যাচ্ছে, যদিও সরকার যথেষ্ট সচেতন আছেন এব্যাপারে। সামান্য ঢিলেঢালা ভাব আর একটু অসচেতনতায় যথেষ্ট এ মহামারীর বিস্তার ঘটাতে দেশব্যাপী। বর্তমানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষিত প্যানডেমিক এলার্ট ৬ পর্যায়ে আছে আন্তর্জাতিকভাবে। তাই প্রতিরোধে যা করবেন-


১) হাঁচি-কাশি লাগলে নাক-মুখে হাত না দিয়ে টিস্যু পেপার বা রুমাল চাপা দিন, যাতে তা না ছড়ায়। পরে তা ফেলে দিন বা ধুয়ে ফেলুন। হাত চাপা দিলে কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিন। যত্রতত্র থু থু ফেলার অভ্যাস নিজে পরিবর্তন করুন, অন্যকেও পরিত্যাগ করতে বলুন।
২) যাদের এধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
৩) সন্দেহজনক করমর্দন এড়িয়ে চলুন। এরকম ঘটে গেলে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৪) এধরনের কেউ দরজার হাতল বা অন্যকিছু ধরলে তা কড়া ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
৫) এধরনের কারো কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা থাকলে নাক-মুখ ঢাকার মুখোশ ব্যবহার করুন।

প্রাথমিকভাবে এ রোগ সাধারন অন্য ফ্লু’র মত। তাই এসবের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপাততঃ আতংকিত হওয়ার দরকার নেই। সারাবিশ্ব এবার এর প্রতিরোধে যথেষ্ট প্রস্তুত। আমাদের দেশসহ সকল মানুষ থাকুক সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ -রইলো শুভকামনা।

Monday, April 13, 2009

পারমাণবিক বিদ্যুৎ : চিন্তা বিলাস নাকি বাস্তবতা?

বর্তমানে যে কোন দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। প্রযুক্তিকে সঠিক সময় গ্রহন না করে পিছিয়ে পড়াটা এই যুগে আত্মহত্যারই শামিল। বিদ্যুৎ শক্তির অভাব বর্তমানে প্রকট আকার ধারন করেছে। এই কয়েকদিন আগেও মাননীয় অর্থমন্ত্রী সাহেব বলেছেন, আগামী তিন বছরেও চাহিদা মত বিদ্যুৎ পাওয়া বা তার কোন সমাধান হবেনা।
আমাদের দেশে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরীর প্রধান উৎসগুলো হলো, প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি, তেল ও কয়লা। প্রাকৃতিক গ্যাস, যার অধিকাংশই সাম্রাজ্যবাদী কিছু কোম্পানীর কাছে দায়বদ্ধ। তারা পূর্বের সরকারগুলোকে গ্যাসের মজুদ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখিয়েছিল, শুধুমাত্র অত্যাধিক পরিমানে আহরণ, বিক্রি ও বিদেশে রপ্তানীর পরিকল্পনা করে অল্পসময়ে প্রচুর মুনাফা লাভের আশায়। আমাদের কি ক্ষতি হবে তাতে তাদের কোন মাথাব্যাথা থাকার কথা নয়। এজন্যেই তারা কর্পোরেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বাপেক্সকে সুপরিকল্পিত ভাবে পঙ্গু করে রেখে।
গ্যাসের বাজার ভ্যালু কম হওয়ায় এটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং বড় আকারে তার জন্যে প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলো গ্যাসের ব্যবহারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অদূরদর্শী ও অদক্ষ কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। এখন সেইসব কয়েকশ কোটি টাকার প্ল্যান্টগুলো গ্যাসের অভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আসলে গ্যাস নিজেই একটি শক্তি। তাকে রূপান্তর করে অন্য শক্তিতে নেওয়ার প্রয়োজন কি? গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়া মানে সারের দাম তথা চাউল সহ সকল শস্যের দাম কি পরিমান বাড়বে, সেটা কল্পনা করতেও ভয় হয়। গ্যাস শেষ হওয়া মানে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেখা দিবে স্থবিরতা। যার আলামত আমরা ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছি। এজন্যে আমাদেরকে অনেক আগেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। অন্য যে উৎস্যগুলো রয়েছে তা হলো পরমাণু বিদ্যুৎ, বায়ুকলচালিত বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োডিজেল। পরমাণু বিদ্যুৎ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো এখনো সম্পুর্ণ সমাধান নয়। তাছাড়া সৌরবিদ্যুৎ খুবই ব্যয়বহুল ও আমাদের মতন বর্ধিষ্ণু কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অপর্যাপ্ত। বর্তমানে আমাদেরকে দ্রুত স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের দু’টি পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদের সামনে ক্রমবর্ধমান বিপুল চাহিদার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের একটিই পথ খোলা আছে, আর তা হল পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
প্রশ্ন উঠতে পারে এটাতো ব্যয়বহুল এবং এত বৃহৎ ও কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যান্ট আমরা কি চালাতে পারবো? অবশ্যই পারবো। আমাদের ভালো ভালো সুদক্ষ প্রকৌশলীরা বিদেশে গিয়ে তাদের গবেষণা ও পেশাগত সাফল্য দেখাচ্ছে। তাতে পৃথিবীর বহুদেশের মানুষ উপকৃত হচ্ছে আমাদের মেধাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে। সুতরাং উঁচুমানের ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসলে তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেনা। শুধু প্রয়োজন আমাদের কৃচ্ছতা সাধনের মানসিকতা তৈরী। সমস্ত সরকারী-বেসরকারী অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান আর দিবস পালনের নামে শতকোটি টাকা ব্যয় কমাতে হবে। প্যারেড গ্রাউন্ডের ওপর দিয়ে ডগ-ফাইট দেখার জন্য মিগ-২৯ বিমান কেনা বন্ধ করতে হবে।
একটি অতি প্রয়োজনীয় সেক্টরে টাকা বিনিয়োগে সমস্যা কোথায়? এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার জন্য যতদ্রুত সম্ভব পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প একান্ত জরুরী। কারন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে প্ল্যান্টের ফিজিবিলিটি টেস্ট, প্রসেস লাইসেন্সিং, ভ্যান্ডরদের মেশিনারীজ সাপ্লাই ও কমিশনিং স্টার্টআপ করতেই ৩-৪ বছর লেগে যায়। এছাড়া দেশের বৃহৎ শিল্পায়নে কোন ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশন ছাড়া নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পারমানবিক শক্তি অপরিহার্য। এপ্রসঙ্গে বলা যেতে পারে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে জনসংখ্যার তুলনায় রয়েছে বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ ও বিপুল বৈভব। যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত ও চিত্রটা ঠিক এর উল্টো। তাই আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে পারমাণবিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে বিদ্যুত উৎপাদন বেশী জরুরী, যতটা না তাদের। খুব অল্পসময়ে তেল, গ্যাস ও পাথুরে কয়লা প্রভৃতি ফসিল জ্বালানী শেষ হয়ে যাবে। তাই আমাদের এই স্বল্প সম্পদের ব্যবহারকে করতে হবে ন্যুনতম ও সর্বোত্তম পদ্ধতিতে।
পারমানবিক বর্জ্যের কি হবে? সেটার জন্য রয়েছে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা পারমানবিক বর্জ্য ট্রিটমেন্ট করে। আবার এটাও আশঙ্কা করা স্বাভাবিক, চেরনোবিলের মত দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু? আসলে প্রযুক্তি এই গত দু'দশকে অনেক এগিয়েছে। এখন ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের ফুয়েল রডের স্থলে পিবল বেড রিএ্যাক্টর ব্যবহার করা হয় যা প্রায় একশত ভাগ নিরাপদ। তাছাড়া এটা নিয়ে আমাদের অত ভয় নেই। কেননা আমরা নিউক্লিয়ার জ্বালানী পরিশোধন বা উৎপাদনের কোন কৌশল হস্তগত করতে চাইছিনা। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে জ্বালানী ব্যবহৃত হয় তা দিয়ে কোন ভাবেই ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র বা ঐ গ্রেডের জ্বালানী প্রস্তুত সম্ভব নয়। তাই এদিক থেকে আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
আনন্দের কথা, বাংলাদেশ খুব ধীরে ধীরে হলেও পরমাণু বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর জন্যে নতুন আইন হচ্ছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু কনভেনশনে স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। হবে। গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়। ২০৫০ সাল পর্যন্ত ৮টি উন্নয়নশীল দেশকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে জাতিসংঘ, তার মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম। বর্তমানে রাশিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন বাংলাদেশকে আর্থিক ও কারিগরী সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে। উচ্চ পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ১০০০ মেগাওয়াট সম্পন্ন ২ টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের। প্রচলিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে দেড়গুন বেশি খরচ হয়। তবুও বর্তমানে এটি কোন কল্পনা-বিলাস নয়। বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোন উন্নয়নের জন্যে এখন এটি বাস্তবতা। তর্ক-বিতর্ক থাকবেই। কিন্তু এরমধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে সোনালী ভবিষ্যতের দিকে। কিন্তু পাবনার রূপপুরের পরমাণু প্রকল্পের মত কোন অদৃশ্য হাতের কারসাজিতে এ উদ্যোগ যেন আবারো ব্যর্থ না হয়। আমাদের আশা বাংলাদেশ সফল হবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে।



web counter


ইন্টারনেটঃ প্রযুক্তির এক বিষ্ময় বিশ্ব!

বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো। অস্কারের উপর কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য তার একান্ত দরকার। ঠিকঠাক মত কোথাও খুঁজে পাচ্ছেনা। আবার কিছু বলতে গেলেও তা মানতে নারাজ। মহামুশকিল। আসলে তথ্যগুলো ঠিকমত কোথায় রয়েছে সেটা মনে করতে পারছেনা এ মূহুর্তে। কোন সমস্যা নেই! আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটার দিয়ে ইন্টারনেটের অন্তঃহীন বিশ্বে লগইন করুন অথবা সার্চ দিন, দেখবেন মূহুর্তে লাখ লাখ তথ্য এসে হাজির আপনার মনিটরের পর্দায়। পেয়ে যাবেন যা খুঁজছিলেন। ইন্টারনেট হলো ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে বা তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়ক। সারাবিশ্বে লাখ লাখ নেটওয়ার্ক একসূত্রে গেঁথে তৈরী হয়েছে এই মহাসড়ক। যার মাধ্যমে কোটি কোটি ব্যবহারকারীরা নিজেদের মাঝে করতে পারে তথ্য ও ভাবের বাধাহীন বিনিময়।

১. আদিকথাঃ
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের দিকে একদল উৎসাহী বিজ্ঞানী যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূলে বদলে দিতে ভিন্নধর্মী গবেষনা শুরু করেন। উদ্দেশ্য এমন এক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা দ্রুত তাদের চিন্তা ও মতামতের বিনিময় ঘটাতে পারেন। প্রকল্পের নাম ছিলো আরপানেট(ARPANET)। সেসময় সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার থেকেও তথ্য নিতে হলে ম্যাগনেটিক টেপ বা ছিদ্রযুক্ত কার্ড ব্যবহার করতে হতো। পরবর্তী পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। জন্ম নেয় নিউজগ্রুপ USENET-এর, যার পরিচিতি এখন বিশ্বব্যাপী। ১৯৯০ সালে এসে আরপানেট পরিবর্তিত হলো ইন্টারনেট-এ।
২. দায়িত্ব কার?
এই যে সারাবিশ্বজুড়ে এতবড় একটি নেটওয়ার্ক তার কিন্তু কোন কেন্দ্রীয় দফতর নেই। নেই কোন একক কর্তৃত্ব। প্রতিটি নেটওয়ার্ক তাদের নিজস্ব পদ্ধতি, নিয়ম ও ব্যবস্থাপনায় চলে। তবে ইন্টারনেটের মূল কাঠামোটি রক্ষনাবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডশন (NSF)। তাছাড়াও রয়েছে কিছু ইন্টারনেট সোসাইটি।। যারা নেটওয়ার্ক তৈরী, মান-নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকগুলো দেখে থাকে।
৩. কি কি সুবিধা দেয় ইন্টারনেট?
সরকারী-বেসরকারী সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা যেকোন একক ব্যবহারকারী তাদের সংযোগের ধরনের ভিত্তিতে নীচের সুবিধাগুলো পেতে পারেন-
০১) ই-মেইল (E-mail)
০২) ভিডিও ফাইল দেখা (Youtube)
০৩) ভয়েস মেইল, ভয়েস চ্যাট ও ভিওআইপি
০৪) ভিডিও কনফারেন্স ও ভিডিও টেক্সট
০৫) ফাইল ট্রান্সফার (FTP)
০৬) সংবাদ (Usenet)
০৭) বুলেটিন বোর্ড সার্ভিসেস (BBS/RSS)
০৮) দূরবর্তী লগইন (Telnet)
০৯) ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ই-ক্যাশ ও কেনাকাটা
১০) Wi-Fi ও WIMAX-এর সুবিধাসমূহ
১১) মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি
৪. কিভাবে কাজ করে?
বর্তমানে ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে বড় তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম। এই তথ্য বা ডেটা চলাচল করে নেটওয়ার্ক বা কমিউনিকেশন লাইনের মাধ্যমে একটি নিয়মের অধীনে, যাকে বলা হয় “প্রটোকল”। দু’ধরনের প্রটোকল সাধারনতঃ ব্যবহৃত হয়। ট্রান্সমিশন প্রটোকল (TCP) এবং ইন্টারনেট প্রটোকল (IP)। টিসিপি প্রাথমিক তথ্যকে ভেঙ্গে টিসিপি প্যাকেট তৈরী করে। আর আইপি ঐ টিসিপি প্যাকেটগুলো ভেঙ্গে আরো ক্ষুদ্রতর প্যাকেট তৈরী করে। ক্ষেত্রে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যেতে আরো দু’টো প্রটোকল Serial Line Internet Protocol(SLIP) ও Point to Point Protocol(PPP)-এর প্রয়োজন হয়। এরপর প্যাকেটগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্য বা ঠিকানায় দ্রুত পৌঁছাতে ঘুর পথে না গিয়ে সবচেয়ে সোজা পথটি ধরে। আমাদের দেশে এই তথ্য দেশের বাইরে আসা-যাওয়া করে মূলত সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথে V-SAT বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। সাবমেরিন কেবলের উপর BTRC এর পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে। তারা যেকোন সময় যেকোন ওয়েব সাইটে প্রবেশ বন্ধ করার অধিকার সংরক্ষন করে।
৫. ইন্টারনেট ঠিকানাঃ
যে কোন তথ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্যে স্বাভাবিকভাবেই একটি ঠিকানা প্রয়োজন। ইন্টারনেটে ঠিকানার এই পদ্ধতিকে বলা হয় Domain Name System (DNS)। DNS ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত সব Host কম্পিউটারকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে একটি Domain নাম দেয়। সর্বোচ্চ Domain সাধারনতঃ হয় দেশের নাম। যেমন যুক্তরাজ্যের জন্যে .uk, যুক্তরাষ্ট্রের .us, চীনের জন্যে .cn, বাংলাদেশের .bd ইত্যাদি। পরের স্তরের Domain হয় প্রকারভেদের উপর। যেমন edu(Education), org(Organization), net(Network), gov(Government), ac(Academic), com(Commercial) ইত্যাদি। তার পূর্বে সাধারনত Domain Provider-এর নাম থাকে। যেমনঃ www.mathabhanga.com।
৬. কিভাবে যুক্ত হওয়া যায়?
ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়ার জন্যে প্রাথমিকভাবে দরকার একটি কম্পিউটার, একটি সংযোগ লাইন ও একটি মডেম। মডেম (Modulator-Demodulator) হলো এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটালে এবং ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগে রূপান্তরিত করার যন্ত্র। মডেম সাধারনতঃ ডায়াল আপ, জিপিআরএস বা এজ প্রকৃতির হয়ে থাকে। যে সকল মোবাইল সেট-এ GPRS বা EDGE সুবিধা আছে, সেগুলো মডেম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া যেসব LAN বা WAN ব্রডব্যান্ড-এর সঙ্গে যুক্ত, তার অন্তর্ভূক্ত হয়েও ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়।
৭. বাংলাদেশে বর্তমান সংযোগের রকমফেরঃ
ইন্টারনেটে যুক্ত হতে মূলতঃ কিছু পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ
ক) বিটিআরসি বা অন্য বেসরকারী ল্যান্ডফোন লাইন বা ডায়াল আপ।

খ) ব্রডব্যান্ড লাইন যা সাধারনতঃ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা (ISP) দিয়ে থাকে। তারা BTRC-
এর কাছ থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে চালিত ব্যান্ডউইথ কিনে তা আবার গ্রাহকদের কাছে
বিক্রি করে। ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞানুযায়ী যে গতি পাওয়া সম্ভব তা কখনোই পাওয়া যায়না ISP
ওয়ালাদের অতিমুনাফাখোরী মনোবৃত্তির কারনে।

গ) ওয়্যারলেস বা তারবিহীন নেটওয়ার্কঃ এটি মূলতঃ মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো একই পন্থায়
ব্যান্ডউইথ কিনে তার গ্রাহকদের দেয় কাছে গলাকাটা দামের বিনিময়ে।

ঘ) WiFi বা WiMAX হলো তারবিহীন নেটওয়ার্ক। ভারতসহ অনেকদেশে খুব অল্পখরচে WiFi পরিচালিত হলেও এর ডেটা ট্রান্সফার রেট ও টাওয়ারের এলাকা কভারেজ সীমিত হওয়ায় খুব বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। WiFi পরিপূর্নভাবে জায়গা করে নেওয়ার আগেই বাংলাদেশে এই বছরের মাঝামাঝি চলে আসবে উন্নততর সেবা নিয়ে WiMAX নেটওয়ার্ক। বলা যায় এটা WiFi-এর উন্নততর সংস্করন যা উচ্চগতিসম্পন্ন। এর এলাকা কভারেজও হবে অনেক বেশি। এরই মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১১০ টি দেশে এই নতুন প্রযুক্তি চালু হয়ে গেছে। এপ্রযুক্তি এলে অনেক সুবিধার মাঝে IP মোবাইল ফোন, এফ এম, ATM সংযোগ, রেডিও, দ্রুততার সঙ্গে ভিডিওচিত্র আদান-প্রদান ছাড়াও পাওয়া যাবে ট্রিপল প্লে সার্ভিস। যাতে একসঙ্গে টেলিভিশন (IP TV) দেখার ব্যবস্থা, ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেটে কাজ করা যাবে। বর্তমানে অনেক মোবাইল সেট GPRS সম্বলিত হলেও এখন পর্যন্ত WiMAX সুবিধা নেই। তবে অদূর ভবিষ্যতে তা সেটগুলিতে চলে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশের মত নদী-নালা আর খাল-বিলের দেশে তারহীন প্রযুক্তি WiMAX-এর মাধ্যমেই সম্ভব উচ্চগতির ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেওয়া। যেমনটি ঘটেছে মোবাইল ফোন সেবার ক্ষেত্রে দেশজুড়ে। তবে মনে হয় মোবাইল কোম্পানীর 3G সার্ভিসের সঙ্গে WiMAX-এর একটা টক্কা লাগবে ও কষ্টকর বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হতে পারে।

উন্নতবিশ্ব তথা আমাদের দেশের মানুষও ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রবেশ করছে তথ্য সাম্রাজ্যের এক মহাজগতে। অসংখ্য মুক্তমনা মানুষ এই তথ্য জগতকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে তুলছেন তাদের মেধা প্রকাশ ও ব্লগ লেখার মাধ্যমে। ইন্টারনেট সত্যিকার অর্থেই বিশ্বকে এনে দিয়েছে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের ছোট পর্দায়। তাই একে এড়িয়ে থাকা আর অচলায়তনে বন্দী থাকা হবে একই কথা।




web counter

Friday, March 27, 2009

ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা ও ইউনিকোড

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন নতুন সংযোজনে ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে আমাদের এ পৃথিবী। অষ্টাদশ শতাব্দীতে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এসেছিল টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ। তারপর থেকে আমরা আস্তে আস্তে ভোগ করতে শুরু করি উন্নত সুযোগ সুবিধা। বিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা পেয়েছি যোগাযোগ ব্যবস্থার আকর্ষণীয় মাধ্যম ইন্টারনেট, ই-মেইল সহ সেলফোন নেটওয়ার্ককে। এসকল মাধ্যম সহজ করে দিয়েছে বিশ্বের এক প্রান্তকে অন্যপ্রান্তের সাথে মূহুর্তে বেঁধে ফেলতে বা সংযোগ ঘটাতে। এই অর্ধশত বছর আগেও যা কল্পনা করা যেতনা।

এইতো বছর পাঁচেক আগেও আমার খুব ইচ্ছে হতো, ইন্টারনেটে মায়ের ভাষা দেখতে। দেখতাম অনেক ওয়েব সাইট তৈরী হয় ইংরেজী ছাড়াও অন্যান্য দেশের নিজস্ব ভাষায়। আশ্চর্য্য হয়ে যেতাম। আমি প্রযুক্তিবিদ নই। তবে প্রচন্ডরকম প্রযুক্তিমনষ্ক একজন মানুষ। প্রতিনিয়ত কেন জানি প্রযুক্তি শুধু আমাকে টানে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই প্রযুক্তির উৎকর্ষতা দেখে যাওয়ার জন্যেই আমাকে বাঁচতে হবে। দিন যায় আর আসে একটি একটি নতুন প্রযুক্তি। প্রযুক্তির এই উন্নতর সংস্করন বা উৎকর্ষতা তৈরীর জন্যে যেন চারিদিকে হিড়িক পড়ে গেছে। এখন খুব ভাল লাগে যখন দেখি কোন একটি ওয়েব সাইট সম্পূর্ণ বাংলায় তৈরি। বাংলা ওয়েব সাইট বানানোর প্রথম দিকের পর্বগুলো ছিলো খুবই জটিল। মূলতঃ তা হতো তিনটি পদ্ধতির যে কোন একটির উপর ভিত্তি করে বা সহযোগেঃ

১) সাইটে বাংলা ফন্ট আপলোড করে রাখতে হতো। ব্যবহারকারীকে তা নিজের কম্পিউটারে ইন্সটল করতে হতো।

২) বাংলা লেখাগুলোকে বই-এর পাতার মত স্ক্যান করে JPEG ফরম্যাটে ছবি আকারে আপলোড করা।

৩) পুরো লেখাটিকে PDF ফরম্যাটে রূপান্তরিত করে ফাইলটিকে আপলোড করতে হতো। সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে অবশ্যই PDF রিডার সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকতে হতো তা পড়ার জন্যে।

এসব কিছুই ছিলো দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত। বর্তমানে তা দূরীভূত হয়েছে কিছু প্রযুক্তিবিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরী কিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমে। অভ্র ও নিকশ হলো তাদের মধ্যে অন্যতম। এসব সফটওয়্যারের মাধ্যমে খুব সহজেই ইউনিকোডভিত্তিক ফন্ট দিয়ে লেখা যায়। আর লেখার পর তা আপলোড করলেই হলে। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, মজিলা ফায়ারফক্স বা অপেরা ব্রাউজারে নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানায় ক্লিক করলেই পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে বাংলা ভাষায় লেখা ওয়েবসাইটটি ভেসে ওঠে। প্রবাসী একজন সাইবেরিয়া থেকে যখন তার মায়ের ভাষায় তৈরী ওয়েব সাইটটি মনিটরের পর্দায় দেখে ও মন্তব্য করে কোন ঝামেলা ছাড়াই, শুধুমাত্র সেই জানে তার মন কি আনন্দে ভরে উঠে! এটা হয়তো এভাবে লিখে বোঝানো সম্ভব হবেনা। তবুও হয়তো আপনাদের হৃদয় কিছুটা হলেও স্পর্শ করবে।

আজকের পৃথিবীতে সেই সমস্ত ভাষায় টিকে আছে, যে সমস্ত ভাষার লিখিতরূপ আছে। শুধুমাত্র যেসব ভাষা কথাবার্তায় চলে কিন্তু লেখা হয়না সেসকল ভাষা একদিন কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায়। তাই একসময় মনে করা হলো ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে দরকার তার ছাপা বা মুদ্রণরূপ। কিন্তু বর্তমানে ভাষাকে শক্তিশালীভাবে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন তার সার্বজনীন ও ডিজিটাল রূপ। এটাই এখন একমাত্র রূপ যা ভবিষ্যতে সবকিছুতেই ব্যবহৃত হবে। তাই আমাদের এখন এমন ফন্টে লেখালেখি করতে হবে যা হবে সার্বজনীন ও আগামীতে যেন পুনরায় পরিবর্তন করতে না হয়। তা যেন পৃথিবীর যে কোন কম্পিউটার থেকে সহজে পড়া যায়। বর্তমানে আমাদের দেশ ও পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের চিত্র সম্পূর্ন ভিন্ন। যদিও তারা কিছুটা নিয়ম মেনে চলছে। কিন্তু আমাদের দেশে এক কম্পিউটারে লেখা ডকুমেন্ট অন্য কম্পিউটারে নিলে তা অনেক সময়েই পড়া যায়না। একই অবস্থা ভারতীয় লেখা বা খবরের কাগজের ইন্টারনেট সংস্করন বাংলাদেশ থেকে সহজে পড়া যায়না। এটার একমাত্র কারন ASCII ‘আসকি’-র যথেচ্ছা ব্যবহার। আসলে এর একটা প্রমিতকরণ প্রয়োজন। তাই এর একমাত্র আন্তর্জাতিক সমাধান হলো ইউনিকোড ফন্ট। আসকিতে সংকেত ছিলো ২৫৬টি। আর ইউনিকোডে আছে ৬৫ হাজারেরও বেশি। এখন পর্যন্ত অনেক খবরের কাগজ ইন্টারনেটে পড়তে হলে তাদের নিজস্ব ফন্ট ইন্সটল না করে উপায় থাকেনা। তাছাড়া সব ব্রাউজার তা সাপোর্টও করেনা। তাই বাংলাদেশের অনেক সংবাদ ভিত্তিক সাইট এখন গড়ে উঠেছে ইউনিকোড ভিত্তিক ফন্ট দিয়ে। এটি একটি দূরদর্শিতা। এখন প্রয়োজন সরকার ও সংবাদ মাধ্যমগুলোকে পুরোনো দলিল-দস্তাবেজ ইউনিকোডে রূপান্তরের। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সবার ‘আর্কাইভ’ ব্যবহার করা খুব সহজ হবে। তাছাড়া তাদেরকেও আর্কাইভ ডেটা পরিবর্তন করার মত ঝামেলা পোহাতে হবেনা।

এখন সবাই এটা মেনে নিলেই হলো। এরই মধ্যে দেশে-বিদেশে অসংখ্য বাংলাপ্রেমী মানুষ ইউনিকোডের মাধ্যমে লিখে চলেছে তাদের কথামালা। আর তাতে বাংলা ওয়েব সাইট, ব্লগ সাইটগুলো সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। সম্ভব হচ্ছে মায়ের ভাষায় ই-মেইল করা, তাৎক্ষ্ণণিক বার্তা আদান-প্রদান ছাড়াও ফেসবুকে ভাব বিনিময়ের। ফলে ধীরে ধীরে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা একটি প্রমিতমানের দিকে চলতে শুরু করেছে। আমাদের প্রিয় ভাষা, কৃষ্টি আর ঐতিহ্য বেঁচে থাক আমদের হৃদয়ের মাঝে লাখ লাখ বছর ধরে। গ্লোবাল ভিলেজের দোহাই দিয়ে তাকে যেন বিসর্জন দিতে না হয়।




web counter

Tuesday, March 10, 2009

গনতন্ত্র ও আমাদের প্রত্যাশা (পর্ব-২)

১.
বাঙ্গালী জাতি মহান জাতি। প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনোই পিছপা হয়না। স্যালুট বাংলাদেশ ও তার জনগণকে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ ও গোষ্ঠী ছাড়া আমাদের চাওয়া-পাওয়া খুবই সামান্য। পেট ভরে দু’বেলা দু’টো ডাল-ভাত খেয়ে আর গল্প-গুজব করে শান্তিতে ঘুমোনোই ছিলো আমাদের চিরন্তন এবং আদি অভ্যাস। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা উন্নতির শিখরে উঠতে চাই।

২.
গত ২০০৮ নির্বাচনে বিএনপি ডুবেছে প্রধানত দূর্নীতি আর জামাতে ইসলামের সঙ্গে গাঁটছড়া বাধার জন্য। তাছাড়া কম দামে চাল খাবে, ফ্রি সার পাবে আর প্রত্যেক পরিবারে একটা চাকরির ব্যবস্থা হবে-এমনতর কর্মসুচীর আশ্বাস পেয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষ নৌকা ভরে ভোট দিয়েছিল। যদিও এসব ইশ্তেহারে ছিলনা।
বি.এন.পি-র এমন ভরাডুবি হয়ে এই বিজয় হবে আওয়ামী লীগ হয়তো এতটা কল্পনাও করেনি। আর এটা সংসদীয় গনতন্ত্রের জন্যেও বোধহয় খুব একটা সুসংবাদ নয়। একটি শক্তিশালী বিরোধী দলই সংসদীয় গনতন্ত্রের মূলশক্তি। তাই আজ এই গনতন্ত্রের চাবিকাঠি আওয়ামী লীগের হাতে। তাকে গতিশীল ও অর্থময় করার কঠিন ও গুরুদ্বায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। এটা কখনোই মনে করা ঠিক হবে না সারা দেশটা রাতারাতি পুরো দেশটা আওয়ামী বনে গেছে। আসলে দেশে তৈরী হয়ে গেছে বিরাট সংখ্যক কয়েকটি নির্ধারক গ্রুপ। যারা শিক্ষিত, মার্জিত, রুচিবান ও বস্তুবাদী। তাদের অধিকাংশই আবার তরুন সমাজ। আর আছে নারী ও খেটে খাওয়া মানুষের আরেকটি বড় অংশ। যারা কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখী হয়ে জীবন-ধারন করে। মূলত এই দুই গ্রুপই পরিবর্তনের নিয়ামক শক্তি। অনেকেই অন্যান্য দলের (এমনকি বি.এন.পি-র) সমর্থক, কিছুটা আবেগী ও অনুরাগের অধিকারী। কিন্ত এদের অধিকাংশই হলো পরিবর্তশীল ও বাস্তববাদী। যাদের চাওয়া পাওয়া বা প্রত্যাশাগুলো বি.এন.পি কখনোই অনুধাবন করতে পারেনি। আর তাইতো হয়েছে এই ভরাডুবি। বি.এন.পি কখনোই নিজেদেরকে সংশোধনের উদ্যোগ নেইনি। সন্ত্রাসী ও গডফাদারদের নিরবচ্ছিন্ন প্রশয় দিয়ে গেছে এবং সর্বশেষে তাদেরকে নির্বাচনে মনোনয়নও দিয়েছে। রাজাকারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও নির্ভরতা আরো বাড়িয়েছে। এটা জনগণ কখনোই ভালোভাবে নেইনি। ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য এই দেশের মানুষের মাঝে একটা মানসিক পরিবর্তন মনে হয় তারা করতে পেরেছেন।

৩.
দু’দলই ইশতেহারে অনেক কিছু বলেছেন। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে আশ্বাসের কোন কমতি ছিলনা। এগুলোর একটা অংশও যদি পূরন করা সম্ভব হয়, তবে বিশ্বের দরবারে আমরা একটা অনুকরণীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবো। এই পরিবর্তনের সময় সাংসদকে ভাবতে হবে তাঁরা মহামান্য নন। তাঁরা জনগণের সেবক মাত্র। মানসিকতার পরিবর্তন না হলে সবকিছু ভন্ডুল হয়ে যাবে। সবকিছু ফিরে যাবে আগের অবস্থায় নিশ্চিতভাবে। যে কাজটি করে গেছে পূর্বের বি.এন.পি। গত পাঁচ বছরে তাদের দলীয় নেতা ও সাংসদরা দূর্নীতির পাহাড় গড়েছে আর সন্ত্রাসকে লালন করেছে রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায়। অবশ্য তার শুরুটা হয়েছিলো সেই এরশাদের সময়ে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তার শুরু হয়েছে ১৯৯৬ সালে। এই পুরো দশ বছরই হলো বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় লুটপাটের কালো অধ্যায়।

৪.
এখন থেকে আওয়ামী লীগ ও বি.এন.পি কে শুরু করতে হবে সেই গোঁড়া থেকে। একদলকে শুরু করতে হবে সৎ ও পরিকল্পিত শাসনের অধ্যায়। আর অন্য দলকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত, অনুধাবন, নতুন করে দল গুছানো ও ছোট দল হিসেবে সংসদে অবস্থানের অভ্যাস। দ্রব্যমূল্যের দাম হয়তো এমনিতে অনেকটা কমে যাবে। কেননা সারাবিশ্বের মুদ্রাস্ফীতির হার কমা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে হয়। যে সকল দেশি-বিদেশী অর্থনীতিবিদ বিশ্বের বড় বড় সংস্থার এদেশীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন আর মুক্তবাজার নীতির তত্ত কপচাচ্ছেন, তাদেরকে থামাতে হবে। বাজারে থাকতে হবে সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারন মূলতঃ দু’টি। এক. তা বিশ্ব বাজার দাম তথা তেলের দামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এখানে হয়তো সরকারের খুব একটা কিছু করণীয় নেই। দুই. আমাদের স্বদেশী শক্তিশালী সিন্ডিকেটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর অবিশ্বাস্য মুনাফাখোরী মনোবৃত্তি। এব্যাপারে এখন হার্ডলাইনে যাওয়ার সময় এসেছে। মুক্তবাজার নীতির যদি অনুসরণ করতেই হয়, তবে সমস্ত ব্যবসায়ী ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে হবে। দেখবেন, সুফল এমনিতেই ঘরে চলে আসবে। এটি করতে হবে অতিদ্রুত ও সুচতুরতার সঙ্গে। আমাদের দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি অবশ্যই অচল। কেননা, বাজার অর্থনীতির মূলমন্ত্র যে “চাহিদা-যোগান” সেটি কখনোই এখানে সমান্তরাল নয় এবং তাড়াতাড়ি হওয়ারও কোন আশা নেই। জনগন অতিঅধিক হওয়ার কারনে এবং বাজার বিরাট হওয়ায় এখানে “চাহিদা” সবসময়ই উঁচু স্থান দখল করে থাকবে। “যোগান” কখনোই তার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবেনা। অবশ্যই ব্যবসায়ীদের সম্মান করতে হবে। মনে রাখতে হবে আজকের ব্যবসায়ী আর ষাট-সত্তর-আশি দশকের ব্যবসায়ীদের মাঝে অনেক তফাৎ। এখনকার ব্যবসায়ীরা শিক্ষিত, রুচিবান ও সর্বোপরি উচ্চাকাংখী।

আসলেই দরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। বাজার উর্দ্ধমুখী মূলতঃ যোগান ও চাহিদার অসামঞ্জস্যতার কারনে। আমাদের দেশে এদের মধ্যে ব্যালান্স আনা দূরহ ব্যাপার। তবে এছাড়াও আরো ৫ টি কারনে নির্ভর করে বাজারদর।
১. আন্তর্জাতিক মূল্য।
২. অসাধু ধনী ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র।
৩. পাইকার বা খুচরা বিক্রেতাদের অত্যাধিক মুনাফাখোরী মনোভাব।
৪. মজুতদার ও কালোবাজারীর মাধ্যমে দাম বাড়ানো।
৫. মধ্যস্বত্বভোগী ও ফঁড়িয়া গোষ্ঠী।

সরকারের হাতে ১ নং কারনটি ছাড়া অন্য সবগুলো নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা আছে এবং পারে। পূর্বের মত মুক্তবাজারের দোহাই দিলে সবাই আবারো ভুগবে। তাই বাজার শক্তহাতে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীরা জোটবদ্ধ হতে শুরু করেছে। তাই সরকারের উচিৎ হবে পুরো বাজার ব্যবস্থা এখনই ঢেলে সাজানো, যাতে মানুষের বিশ্বাস ফিরে আসে ও স্বস্তি ফিরে পায়। কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখা যাতে আইন শৃংখলার অবনতি না হয়-যা ইতিমধ্যেই ঘটতে শুরু করেছে।

মানুষের প্রত্যাশা একটু শান্তি আর তা দিতে নিশ্চয় এ সরকার সক্ষম হবে। আমদের সে চাওয়া যেন পূরন হয়।





web counter



গনতন্ত্র ও আমাদের প্রত্যাশা (পর্ব-১)

১.
বাঙ্গালী জাতি মহান জাতি। প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনোই পিছপা হয়না। স্যালুট বাংলাদেশ ও তার জনগণকে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ ও গোষ্ঠী ছাড়া আমাদের চাওয়া-পাওয়া খুবই সামান্য। পেট ভরে দু’বেলা দু’টো ডাল-ভাত খেয়ে আর গল্প-গুজব করে শান্তিতে ঘুমোনোই ছিলো আমাদের চিরন্তন এবং আদি অভ্যাস। কিন্তু বর্তমানে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে এজাতি উন্নতির শিখরে উঠতে চাই। যতবার তারা তা চেয়েছে, ততবারই তা বাধা হয়ে ফিরে এসেছে। ১৯৭০ ও ২০০৮ তারই প্রমান। এসময়গুলোতে জনগণ রায় দিয়েছে গণতন্ত্রের পক্ষে সঠিক নেতৃত্ব দানের জন্যে। কিন্তু পূর্বের সরকারগুলো অনুধাবন করতে পারেনি জনগণের চাহিদা, আশা ও আকাঙ্খার কথা। তাই পরবর্তীতে তাদেরকে আবার যুদ্ধ ও আন্দোলন করতে হয়েছে তা প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে।

২.
২০০৮ নির্বাচনের ফলাফল প্রকৃতঅর্থে জনগণের বিজয়। এ বিজয় লাগামহীন দূর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিজয়। এদেশে মানুষ আর যুদ্ধ-অপরাধীদের নড়ন-চড়ন দেখতে চায়না। পরোক্ষভাবে এটা আওয়ামী বিজয় হলেও মূলত জনগণ আওয়ামী লীগকে রায় দিয়েছে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনার। তাই এতে অতিমাত্রায় উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। আসলে জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। তাই তাদের আওয়ামী জোটকে ভোট না দিয়েও কোন উপায় ছিলোনা। তাই বি.এন.পি এর উল্টো দিকে যেকোন Potent দলেরই জেতা সম্ভব ছিলো। কিন্তু এখনো সেরকম বিশ্বাসযোগ্য কোন দল না থাকায় এমনটি হয়েছে। এই দুই সিন্ডিকেটেড জোটের যেকোন একটি ছাড়া তাদের আর কোন পছন্দ ছিলোনা। আর তাতেই ফলাফল এমনটি হয়েছে। দেখা গেছে, এটা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় ঘটেনি। পুরো দেশজুড়ে একই অবস্থা। জনগণ বি.এন.পি কে সরাসরি প্রত্যাখান করেছে। প্রত্যাখান করেছে তাদের গোষ্ঠীগত চরম স্বার্থপরতা, শাসনতন্ত্রের ব্যর্থতা আর যুদ্ধাপরাধীদের সংশ্লিষ্টতা। এই অবিশ্বাস্য ফলাফল, যা আওয়ামী লীগ কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি। তাই অভূতপূর্ব জনগণের এই রায় আওয়ামী লীগের প্রতি। এর থেকে বড় পাওয়া আর সম্মান কি হতে পারে তাদের জন্যে।

৩.
অতীতে দু’দলেরই শাসনন্ত্রের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। দু’দুলই পুনরায় আবদার করেছে জনগণের কাছে। কিন্তু তারা বি.এন.পি-কে আর বিশ্বাস করতে পারেনি। তাই শাসনতন্ত্রের মুকুটটি আপাততঃ দিয়েছে আওয়ামী লীগ কে। তাই আওয়ামী লীগের কখনোই ভাবা উচিৎ হবেনা এটা চিরন্তন। এখন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব বরং অনেক বেশী বেড়ে গেল। তাদেরকে হতে হবে অত্যাধিক সহনশীল। নিয়ন্ত্রণ করতে শৃংঙ্খলাবিহীন পাতিনেতাদের। কেন্দ্র থেকে বার বার বলা হলেও এখনি তারা কোন কথা শুনছেনা। অসংখ্য জায়গায় চলছে মারামারি ও হানাহানি। অনেক বি.এন.পি নেতা ঘর-বাড়ী ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এমনটি কেউ আশা করেনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে সবকিছু সেই আগের মতই চলবে। যারা এই সাতটি বছর চুপচাপ বসেছিল বা আওয়ামীদের পিছনে কিছুটা বিনিয়োগ করেছে তারা এখন সমস্ত অনৈতিক সুযোগ পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠবে। সবকিছু আবার আগের মত অস্থিতিশীল হয়ে যাবে। তাই এখন সংসদকে পূর্ণ কার্যকর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পূর্বের সমস্ত আচরন ভুলে বিরোধীদলকে আপন করে নিতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারের অসংখ্য আশ্বাসকে স্বপ্নে পুরনের ব্যবস্থা না করে বাস্তবে তা পালন করে দেখাতে হবে। আর তা হতে হবে অন্ততঃ ৭০-৮০ ভাগ। নতুন বছরের নতুন দিনগুলিতে তাদের পথচলা সহজ হোক।



web counter



প্রতিটি সৌদি পুলিশ যখন বিচারকের ভূমিকায়

একমাত্র বোনটা আমার রসায়নের প্রভাষিকা। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলল, ভাইয়া দেখেছেন মানুষগুলোর শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। কারো হাত-পা ভাঙ্গা, কারো শরীরের অংশ বিশেষ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা। বললাম, কারা ওরা? তোর কি পরিচিত? না, ওরা কেউ ওর পরিচিত নয়। কোনদিন ওদেরকে দেখেওনি সে। কিন্তু ওরা তার নিজের দেশের মানুষ। তারা বাংলাদেশের মানুষ। বুঝলাম ওর হৃদয়ে বিশেষ বিক্রিয়ায় রক্তক্ষরণ হচ্ছে প্রিয় দেশের মানুষগুলোর অবস্থা আর করুন মুখগুলো দেখে। চ্যানেল আই-এর সংবাদটা আমিও দেখলাম রাত নয়টায় (৩০।৭।০৮) । সাধারনত আমার টিভি দেখা হয় না। ঘুমাতে পারলাম না সারারাত। হয়তো সবার কাছে এমনটা গা সওয়া গেছে। কিন্তু ব্যাপারটা অত ছোট নয়। এগুলো বারবার ঘটছে শুধুমাত্র এই বাংলাদেশি ভাইদের উপরই। কি করেছে তারা? দুটো ভাতের নিশ্চয়তার জন্যে ঘর-বাড়ী, গরু-ছাগল আর জায়গা জমি বিক্রী করে আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে বিদেশে গিয়ে হয়েছে অবৈধ। সৌদি পুলিশের প্রত্যেকটি কথাই আইন। রাজতন্ত্রে সবাই রাজা। তারা এতটায় নির্দয় যে, বৈধ ব্যাক্তির আকামা ছিঁড়ে ফেলে তাদেরকে মূহুতে বানিয়ে দেয় অবৈধ। মোটা লাঠি দিয়ে পেটায় নিমর্মভাবে। সঙ্গে বিরাশি শিক্কার চড়-থাপ্পড় ছাড়াও থাকে উপরি লাথি। তারপর জোরকরে বিমানে তুলে দেয়। আমাদের মেধা, শিক্ষা, যোগ্যতা সব আছে, শুধু নেই উপযুক্ত যোগ্য নেতৃত্ব। আমরা পরাজিত তাদের অর্থনৈতিক শক্তির কাছে।

web counter



সমসাময়িক স্বাস্থ্য কথাঃ ভেজালের সাতকাহন

আমাদের এই গরীব দেশে আমদানী হয় না এমন কোন জিনিষ নেই বললেই চলে। আমদানী নীতিতে আমরা বড় বেশী উদার। দেশীয় কোনকিছু উৎপাদন কিংবা শিল্প বিকাশে আমাদের সদাই অনীহা। কারণ আমদানীতে ‘টু-পাইস’ কামানো অতি সহজ । তাইতো শত সহস্র যুক্তি আমদানীর পক্ষে যেমনঃ উৎপাদনে খরচ বেশী, উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের, কাঁচামাল, দক্ষ জনশক্তি তথা কলকারখানার অভাব ইত্যাদি। আর এ সব যুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা লোভী অসৎ চক্র নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ বিষমেশানো শিশু খাদ্য তথা অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী আমদানী করছে অবাধে।

চারিদিকে জালের মত ছড়ানো ছিটানো মৃত্যু ফাঁদ। নতুন নতুন পন্থা সংযোজিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিকারের চেষ্টা নেই। আর থাকলেও তা যৎসামান্য। আম-কলাতে ‘কার্বাইড’ বা ‘এ্যাসিটিলিন’, আপেল-আঙ্গুর তথা ফলে কিংবা মাছ-মাংস ও দুধে ‘ফরমালিন’ হরহামেশাই মেশানো হচ্ছে জনসম্মুখে। দেশীয় খাদ্যের এ ভেজাল পুরানো ব্যাপার হলেও আমদানীকৃত পণ্য যথা- শিশু খাদ্য, গুড়ো দুধ, ক্যাডবেরী-ক্যান্ডিতে ‘মেলামাইন’ নতুন খবর। 'মরার উপর খাড়ার ঘা’-র মত।

আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য একটা বিরাট অংশ দখল করে আছে। দেশে আমদানীকৃত আটটি ব্রান্ডের শিশু খাদ্য দুগ্ধে বড় রকমের ভেজাল পাওয়া গেছে। ঐ আট ব্রান্ডের দুই একটা কোম্পানীর তরফ থেকে তাদের দুধে মেলামাইন নেই এবং নিরাপদ বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওযা হচ্ছে। কোথায় যাবো আমরা? আর এসবই করা হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে অধিক মুনাফা লাভের আশায়। কিন্তু কিভাবে তা করা হচ্ছে? মজার ব্যাপার হলো দুধের গুনগতমান দেখার সময় তার অনন্য উপাদান প্রোটিন কতটুকু আছে তা জানতে নাইট্রোজেন এর পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ পরীক্ষায় যদি দেখা যায় নাইট্রোজেন বেশি আছে, তবে ধরে নেওয়া হয় এই দুধ প্রোটিনসমৃদ্ধ। আর মেলামাইনের মধ্যে যেহেতু বিপুল পরিমাণ নাইট্রোজেন আছে, সে কারণে দুধে পানি দিয়ে তাতে মেলামাইনের গুড়া মিশিয়ে প্রোটিনের পরিমাণ আপাতদৃষ্টিতে ঠিক রাখা হতো। যা প্রাথমিক ও সহজ পরীক্ষাগুলোতে ধরা পড়ে না। এতে করে দুধের দাম কমিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছিল এসব চীনা ব্র্যান্ডের। দাম কম, বিক্রি বেশি তাই মুনাফা বেশি! বিষয়টি আগে বহু দেশেরই নজর এড়িয়ে গেছে কেননা খাবারে কেউ মেলামাইন মেশাতে পারে এ ধারনাটাই অনেকের মধ্যে ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে যেসব দুধ কোম্পানির সঙ্গে চীনের কোনো সম্পর্ক নেই তাদের দুধেও মেলামাইন পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কারণ অসৎ ব্যবসায়ীরা চীনের মেলামাইনযুক্ত দুধ অন্য দেশের সিলমার্কা প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করেছে।

মেলামাইন হলো নাইট্রোজেন এ পরিপূর্ন একটি রাসায়নিক যৌগ যা সাধারনত প্লাষ্টিক, এডহেসিভ, হোয়াইট বোর্ড, লেমিনেট এবং আমাদের থালা বাসন তৈরীতে ব্যবহার হয়ে থাকে। মানব দেহে মেলামাইন প্রবেশের পর কখনো শোষিত হয় না। মেলামাইন এবং আরো একটি যৌগ মিলে এক ধরনের পাথর তৈরি করে এবং তা কিডনি নামক ছাঁকনিতে আটকে যায় ও প্রসাবের সাথে সহজে বের হয় না। একসময় পাথর জমতে জমতে কিডনি বিকল হয়ে যায়।

মজাদার চটপটি খাবেন ? আপনার অজান্তে বিক্রেতা মেশাচ্ছেন তেঁতুল টকের বদলে Citric Acid এবং Acetic Acid. যারা বেশি টক পছন্দ করেন, তাদেরকে উনি আরেকটু বেশী বেশী অপরফ দিয়ে দিবেন, কোন চিন্তা নাই। খাদ্যের স্বাদ, বর্ণ ক্রেতা-ভোক্তাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বিবিধ রাসায়নিক পদার্থ সংযোজন করা হয়। তাছাড়া খাদ্যে বিভিন্ন্ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার আমাদের লিভার, কিডনী এবং স্নায়ুমণ্ডলীর যথেষ্ট ক্ষতি করতে সক্ষম। অনেক রাসায়নিক পদার্থ মাংস এবং অস্থিতে জমে দেহে ক্যান্সারের মতো রোগেরও সৃষ্টি করতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এসব ফুড এডিটিভের ব্যবহার সুনিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ। কিন্তু আমাদের দেশে এসবের ব্যবহার অনিয়ন্ত্রিত। এজন্যে দেশে Blood Pressure, Diabetes, Heart Attack, Kidney Disorder, Stroke ইত্যাদি-র মত ভয়াবহ রয়্যাল রোগ বেড়ে যাচ্ছে আশংকাজনকভাবে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবারে সতর্কতার পাশাপাশি টাটকা এবং বিশুদ্ধ খাবারের প্রতি আমাদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

বিশ্বের উন্নত তথা উন্নয়নশীল সবদেশেই খাদ্যে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন জেল-জরিমানা সহ মৃত্যুদন্ড। আর আমাদের দেশে শাস্তির মাত্রাটা ভেজালে উৎসাহিত করার মত। কয়েক মাসের জেল বা জরিমানা গুটি কয়েক টাকা মাত্র। আমরা আর কতকাল অপেক্ষা করব এই খুনী ভেজালকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য ?


web counter


সিন্ডিকেটের অশুভ খপ্পরে বাংলাদেশ। “জোট ও মহাজোট” -সিন্ডিকেটেড রাজনীতির অপরনাম!!!

বর্তমানে সিন্ডিকেটেড রাজনীতি, সিন্ডিকেটেড শিক্ষাব্যবস্থা, সিন্ডিকেটেড ব্যবসা, সিন্ডিকেটেড সবকিছু।

তত্তাবধায়ক সরকারের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম বেড়েছে। এটা ঠিক। কিন্ত এটাতো ঘটেছে মূলত আন্তর্জাতিক মূল্য, অবাধ মুক্তবাজার(?) ও অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য। ব্যবসায়ীরা এসবেরই গল্প ফেঁদেছে, যখন তাদের যেটুকু দরকার হয়েছে। ফুঁলিয়ে ফাঁপিয়ে তা বাজারে ছেড়েছে। বর্ণাতীত মুনাফা লাভের মাধ্যমে ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেট গোষ্ঠী তথাকথিত মুক্তবাজারকে বানিয়েছে মনোপলি বাজার। এসবেরই সৃষ্ট হয়েছে রাজনীতিবিদদের সরাসরী সহায়তায়, তাদের দূর্নীতির ডানার তলায় অবস্থান করে আর মুক্তবাজারের দোহাই দিয়ে। কোথায় মুক্তবাজার অর্থনীতি? সরকারের প্রতাপশালী মন্ত্রীরা বারবার বলেছে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে তাদের কিছু করার নেই। তারা আসলে মুক্তবাজার বলে কিছু বুঝতো কিনা সন্দেহ। অন্যদিকে এনজিও এর সাথে সম্পৃক্ত দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ্গণ তারস্বরে মুক্তবাজারের থিওরি কপচিয়ে আর জয়গান করে সবাইকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন। এখনতো সারা বিশ্বে জিনিষপত্রের দাম কমছে। অথচ বাংলাদেশে তার কোন প্রতিফলন নেই। বরং উল্টোটা ঘটছে এখানে। প্রতিদিনই দাম বেড়ে চলেছে। সব সিন্ডিকেটেড ব্যবসায়ীদের কারসাজী। এখন আপনারা কোন থিওরি কপচাবেন শুনি? খোদ আমেরিকাতেই আজ সেই মুক্তবাজার মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাকে টেনে তুলতে সরকার বিলিয়ন ডলারের যোগান দিয়েও কুলোতে পারছে না। তার সঙ্গে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বাজারকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণের। বিষ্ময়ের সাথে বর্তমানে লক্ষ্য করতে হয়, এই তত্বাবধায়ক সরকার স্ক্র্যাপ লোহার আমদানীকারক সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ায় রডের দাম এখন ৭৪ টাকা থেকে ৫০ টাকায় এসে ঠেকেছে। এর থেকে আমাদের ভবিষ্যত সরকার, আমলা ও অর্থনীতিবিদ্গণের অনেক শিক্ষণীয় আছে।

পূর্ববতী সরকার প্রধানরা বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় থাকাকালে কোন জিনিষের দাম বাড়াইনি, জনগনকে দুবেলা পেট ভরে ভাত খাইয়েছি, কাজ দিয়েছি, দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছি!!! এগুলো বলা বাতুলতা মাত্র। জনগন বোঝে এইসময়ে আপনারাও ক্ষমতায় থাকলে জিনিষ-পত্রের দাম ঠিকই বাড়তো। বরং আরেকটু বেশীই বাড়তো। এটা শুধু বাংলাদেশেই বাড়েনি পৃথিবীর অন্যান্য প্রত্যেকটি দেশে বেড়েছে। তারা এখন বলছেন জনগন উদ্গ্রীব হয়ে আছে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবার জন্যে। কখনোই না। তারা চাই শান্তি। তারা আর দূর্নীতি, হরতাল ও মারকাটের রাজনীতি দেখতে চাইনা। গন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া আমাদের আর কোন বিকল্প তরিকা নেই। থাকলে ভালো হত। কারন এটা প্রমানিত হয়ে গেছে পশ্চিমা ধাঁচের গনতন্ত্র ব্যবস্থায় অনেক ফাঁক-ফোঁকর রয়ে গেছে। তাই পশ্চিমা গনতন্ত্র ব্যবস্থার পুরোটা দুনিয়ার সমস্ত দেশে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। যেহেতু আমরা বিকল্প পথ পাচ্ছিনা, তাই আপাততঃ আবার আমাদেরকে ভোট দিয়ে সেইসব মহারথীদেরকে নির্বাচিত করতে হবে পুনরায়-সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করে রক্ত চোষার জন্য। আমাদের পুরানো অভিজ্ঞতা বলে, অধিকাংশ সাংসদই হচ্ছেন দূর্নীতিগ্রস্থ ও সন্ত্রাসের আশ্রয়দাতা। আর কতদিন জনগণকে বোকা বানাবেন। আপনাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয়, রাজনীতিবিদগণই এদেশে সর্বজ্ঞ্যানী আর জনগণ হলো রামছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। অনেক হয়েছে। এবার ক্ষান্ত দিন। প্রিয় দেশের কথা ভাবুন, জনগনের দিকে একটু তাকান। কি নিয়ে যাবেন কবরে? সেইতো খালি দেহখানি। আপনাদের কি এখনো ভয় হয়না মৃত্যুর? যেখানে একটু গা ব্যাথা করলেই যেতে হয় বিদেশের উন্নত দামী হাসপাতালে।


web counter



দলীয় রাজনীতির সংশ্রবে বৈধ যখন অনৈতিকতা

চিকিৎসকের অনৈতিক সাহায্য নিয়ে ভি. আই. পি. বন্দীরা হাসপাতালে অবস্থান করছেন। কারাকর্তৃপক্ষও নাকি কিছু করতে পারছেনা চিকিৎসকের অসহযোগীতার কারনে। মনগড়া ও ভূয়া রিপোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারনে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে উপরের পদ্গুলোর চারজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আসলে এটা ঘটেছে স্বার্থ আর রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটের কারনে। এই উচ্চপদে অধিষ্ঠিত চিকিৎসকগণ বলি হয়েছেন এসব ক্ষেত্রে। আরেকজন প্রথিতযশা চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী যা করছেন তাও বিশ্লেষণের অবকাশ রাখে। তিনি একজন রাজনীতিকও। বর্তমানে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তিনি যা বলছেন বা যে মিথ্যাচার করছেন তার বিরুদ্ধে কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না। আর তার একমাত্র কারন তিনি আওয়ামী একজন। এখানে তার পেশাদার মিথ্যাচারের সাথী হচ্ছেন সবাই। কি অদ্ভুত দেশ! বাংলাদেশ।

আসলে কারাগারে যারা ছিলো, তাদের খুব কম সংখ্যকই প্রকৃত অসুস্থ ছিলো। কারণ তারা কারাগারের বাইরে আসামাত্রই পূর্বের...... মত লম্ফঝম্ফ শুরু করেছেন। সাকাচৌ-কে দেখুন না! যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তারা এখন রক্তাক্ত হচ্ছে বা এলাকা ছেড়ে বাঁচছে। সরকার এসব ব্যাপারে নির্বিকার। শেখ হাসিনা কারাগারে যখন ছিলেন মনে হচ্ছিলো তার হায়াত বুঝিবা আর অল্প কয়েকদিন আছে। কিন্তু যেইমাত্র বিদেশে গেলেন, ডাক্তারের কাছে রুটিন চেকআপ করা ছাড়া সমস্ত কর্মকান্ডেই অংশগ্রহন করেছেন। এমনকি ফিনল্যান্ডে বিয়ে-শাদীতেও সশরীরে হাজির হয়েছেন। এইতো হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মিথ্যাচার। যতদূর জানতে পেরেছি তার চোখে যে গ্লুকোমা রোগ হয়েছে তার উন্নত চিকিৎসা এদেশেই আছে। তাছাড়া বাংলাদেশের এ চিকিৎসার বাইরে বিদেশে একরত্তিও বেশী চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো তার চোখে যে গ্লুকোমা হয়েছে তার নাম Open Angle Glaucoma-যা কখনোই হঠাৎ করে হয়না। এটা হতে অন্ততঃ ৮ থেকে ১০ বছর লাগে। আস্তে আস্তে চোখের ক্ষতি হয়। তাহলে প্রশ্ন এতদিন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ কি করছিলেন? এখন তার নিজস্ব চোখের ক্ষতির কারনে অন্য কাউকে ধরার পূর্বে মাননীয়া শেখ হাসিনার উচিৎ তাকেই আগে লটকানো। কারন উনিই সবচেয়ে আগে বিদেশে নেওয়ার জন্য চিৎকার করেছিলেন। আসলে সব ভাঁওতাবাজি। এখন র উচিৎ তার চিকিৎসার কাগজপত্র জনসম্মুখে প্রকাশ করা। কোনদিন কেউ কি তা জানতে পারবে? আমি নিশ্চিত কোন অবস্থাতেই আশাকৃত উন্নত-চিকিৎসা সেখানে হয়নি। কারন সেখানকার ডাক্তাররাই বলেছেন, যা হবার আগেই হয়ে গেছে, এখন খুব বেশি কিছু একটা করা সম্ভব না। বর্তমানে বাংলাদেশে চোখের চিকিৎসা যেকোন উন্নত দেশের মতই বা কাছাকাছি। আর গ্লুকোমার ব্যাপারে তো অবশ্যই। এই হলো ভি.ভি.আই.পি.-দের কৃত সমাচার।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর বার বার বলছেন আমরা হিংসা-মারামারির রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা। এটাতো তাকেই প্রমাণ করতে হবে। জনগণ কিভাবে ভুলে যাবে এইতো কিছুদিন আগে বিখ্যাত লগি-বৈঠার কথা। যার মাধ্যমে পুরো দেশটায় স্থবির হয়ে গেছিল, সবকিছু বন্ধ হয়ে পড়েছিল। হ্যাঁ, এদেশের সাধাসিধে মানুষ অতিদ্রুতই সবকিছু ভুলে যায়। স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল আমাদের।



web counter

ইসরায়েল নামের বিষফোঁড়া ও হামাসের ভুল



ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মটায় হলো অবৈধ। জোর করে অন্যের দেশ ও জায়গা দখল করে এই দেশটির জন্ম হয়েছিল। আর এতে চারটি দেশের প্ররোচনা এবং সরাসরি রাষ্ট্রীয় সাহায্য ছিল। তারা হল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, গ্রেট বৃটেন ও ফ্রান্স। তাদের ইচ্ছা ও প্রয়োজনে মূলত এই বিষফোঁড়ার জন্ম হয়েছিল।


এইতো সেদিন হামাস যখন নির্বাচনে জিতে ফিলিস্তিনে সরকার গঠন করেছিল তখন তা ছিল পুরোপুরি বৈধ ও গনতান্ত্রিক। আলজেরিয়াতেও একই ঘটনা হয়েছিল। কিন্তু সেখানের মুসলিম সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ না হওয়ায় তারা সন্ত্রাসী হয়ে গেল রাতারাতি। আসলে গনতন্ত্র হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ মাফিক গনতন্ত্র। তাছাড়া যুক্তির খাতিরে যদি ধরেই নেয়, হামাস সন্ত্রাসী সংগঠন। তবুওতো এটা ঠিক তাদের জন্ম হয়েছে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মের অনেক পরে এবং ইসরায়েলের অত্যাচারে নিজেদেরকে রক্ষার স্বার্থে।


তবুও হামাস ভুল করেছে। ইসরায়েলের মত একটা পারমানবিক শক্তিধারী বদমাশ হিব্রুদেরকে এভাবে হাল্কা টোকা দিয়ে আক্রমনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া উচিৎ হয়নি। যাতে অসংখ্য নিরপরাধী মানুষ মারা যাচ্ছে ও দুঃখ দূর্দশায় নিমজ্জিত হয়েছে। এদেরকে আঘাত করতে হবে সেই শক্তি নিয়ে যাতে অনেক কিছু শেষ করে দেয়া যায়। আর এখানেই ইরানের পারমানবিক ক্ষমতাধারী হওয়ার যৌক্তিকতা। ঘৃন্য এ অপরাধের জন্যে ধিক্কার ও নিন্দা জানাই ইস্রায়েলের। এদের এ অপরাধের শাস্তির জন্যে সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।


web counter



গ্রামীনফোনের স্বেচ্ছাচারীতা!!

BTRC ব্যান্ডউইথ এর মূল্য কমানোর পরও গ্রামীনফোন মোবাইল কোম্পানী সেই আগের রেটই বজায় রেখে গলা কাটা দাম রাখছে মাসিক ইন্টারনেট বিলে। ইন্টারনেট সেবার নামে এ যন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি পাবো কেউ কি বলতে পারেন? BTCL লাইনের অতি শ্লথগতির জন্যে বাধ্য হচ্ছি গ্রামীনের লাইন ব্যবহার করতে। যেমন পিপাসার্ত মৃত্যুপথ যাত্রীকে পানির বদলে পেশাব দিলেও বাধ্য হয়ে খায়। আসলে একাজ করে তারা, যারা শত্রু ও ভালো চায় না এবং নিজের আখের গোছায়।


একই ভাবে তারা উন্নততর নেটওয়ার্কের তথাকথিত ভাওতাবাজি করে সর্বোচ্চ কল রেটে কথা বলতে জনগণকে বাধ্য করছে, যেখানে অন্য সকল অপারেটর অনেক কম রেট দিচ্ছে। আমরা যারা পুরানো নম্বরধারী তারা এই অবিচার মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি। এই অতি মুনাফাখোরী শক্তির বিরুদ্ধে কি কারো কিছু করার নেই?


web counter